Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআরে পাশে নেই বিজেপি, ফুঁসছে মতুয়ারা

কালনা শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত সাতগাছি। এই পঞ্চায়েতে আটজন বিজেপির সদস্য রয়েছেন। এখানকার শ্বাসপুর দিঘিরপাড় গ্রামে তিনটি বুথের মধ্যে দু’টিতে বিজেপি পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। এই এলাকা ‘বাঙাল পাড়া’ নামে পরিচিত। ‘ঘটি’ খুঁজে পাওয়া দায়।

এসআইআরে পাশে নেই বিজেপি, ফুঁসছে মতুয়ারা
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, কালনা: কালনা শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত সাতগাছি। এই পঞ্চায়েতে আটজন বিজেপির সদস্য রয়েছেন। এখানকার শ্বাসপুর দিঘিরপাড় গ্রামে তিনটি বুথের মধ্যে দু’টিতে বিজেপি পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। এই এলাকা ‘বাঙাল পাড়া’ নামে পরিচিত। ‘ঘটি’ খুঁজে পাওয়া দায়। পঞ্চায়েত হোক বা লোকসভা নির্বাচন, এই এলাকা বিজেপির দিকেই ঝুঁকে থাকে। সেই গ্রামেও ছড়িয়েছে এসআইআর আতঙ্ক। স্থানীয়রা বলছেন, মহল্লা বিজেপির দিকেই থাকে। অথচ কঠিন সময়ে গেরুয়া শিবির পাশে নেই। এই এলাকার অনেকেরই ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম নেই। তাঁরা আতঙ্কে ভুগছেন। বিজেপি নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।

Advertisement

এই গ্রামের ৪৩ নম্বর বুথে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল রঞ্জিত দে’র সঙ্গে। তিনি ওই বুথের তৃণমূলের সভাপতি। এসআইআর আতঙ্ক কীভাবে এলাকার বাসিন্দাদের গ্রাস করেছে, সেটা তিনি বোঝাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আমরা অনেক চেষ্টা করেও এই বুথে জিততে পারিনি। বিজেপির উপরই এলাকার বাসিন্দারা ভরসা করেছিলেন। এখন তাঁরা বুঝতে পারছেন, কী ভুল হয়েছিল। যাঁদের ভোটে ওরা জিতল, তাঁদেরই এখন নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলছে। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময়ে পাশ দিয়ে সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন শম্পা গায়েন। তিনি বিজেপির প্রতীকে গত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি বলেন, যাঁদের কাগজ নেই তাঁদের মধ্যে আতঙ্ক তো আছে। তবে, আমাদের দল বলে দিয়েছে, নাগরিকত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। কিছুদিনের মধ্যেই তারজন্য ক্যাম্প করা হবে।
গ্রামে ঢোকার মুখে চায়ের দোকানে বসে কথা হচ্ছিল গোপাল কীর্তনিয়া নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। তিনি বলেন, আর কতবার অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে, বলুন তো! আমার ২০০২ সালে ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে। নথি জমা দিয়েও স্বস্তিতে নেই। শেষ পর্যন্ত কী হবে, কে জানে! তাছাড়া, পরিচিত অনেকেরই নাম নেই। তাঁরা কী করবেন? অপর এক বাসিন্দা বলেন, এত ঝক্কির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাহলে বিজেপিকে ভোট দিয়ে লাভ কী হল? বহুদিন ধরে রাজ্যে রয়েছি। তারপরও এখানে থাকার প্রমাণ দিতে হবে। এখন ধান কাটা, ঝাড়াইয়ের মরশুম। মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারছে না। আতঙ্ক নিয়ে মাঠে যেতে হচ্ছে। কাজে মন বসছে না।
রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা স্বপন দেবনাথ মেমারির পাল্লার সভা থেকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেকে বাধ্য হয়ে এরাজ্যে এসেছেন। তাঁরা নথি আনার সুযোগ পাননি। বিজেপির কথায় নির্বাচন কমিশন এসআইআর করে এই সমস্ত মানুষকে বিপদে ফেলতে চাইছে। কিন্তু ওরা যতই চেষ্টা করুক না কেন, একজন বৈধ ভোটারের নামও তালিকা থেকে বাদ দিতে পারবে না। সেটা হলে জোরদার আন্দোলন হবে। ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে কী হবে, তা কেউই জানে না। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার পরও বহু পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ