Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গান্ধীমূর্তির পাদদেশে খোলা হল তৃণমূলের মঞ্চ : ‘সেনার অপব্যবহার করে স্বার্থ চরিতার্থ করছে বিজেপি’, তোপ মমতার

তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচির মঞ্চ খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল সেনার বিরুদ্ধে। যদিও সেই কাজটি কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাকে  দিয়ে করিয়েছে বলে তথ্য দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গান্ধীমূর্তির পাদদেশে খোলা হল তৃণমূলের মঞ্চ : ‘সেনার অপব্যবহার করে স্বার্থ চরিতার্থ করছে বিজেপি’, তোপ মমতার
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচির মঞ্চ খুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল সেনার বিরুদ্ধে। যদিও সেই কাজটি কেন্দ্রের ক্ষমতায় থাকা বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে সেনাকে  দিয়ে করিয়েছে বলে তথ্য দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেনার পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, দু’দিনের জন্য কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলকে। তারপরেও প্রায় একমাস ধরে মঞ্চ বানিয়ে রাখা হয়েছিল। সোমবার সেই খোলা মঞ্চে দাঁড়িয়েই মমতা ঘোষণা করে দেন আজ, মঙ্গলবার থেকে ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের সামনে বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস ইস্যুতে প্রতিদিন কর্মসূচি হবে। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, ভাষা সন্ত্রাস চলছে। আক্রমণ করা হচ্ছেবাংলা ভাষাকে। এমনকী বাংলা ভাষায় কথা বললে, বাংলাদেশি তকমা সেঁটে দেওয়া হচ্ছে— এই অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ কর্মসূচি করছেতৃণমূল। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষা আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেইমতো সপ্তাহের প্রতি শনি ও রবিবার ধর্মতলার মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে কর্মসূচি করছে তৃণমূল। প্রায় মাসখানেক ধরে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি করে আসছে তৃণমূলের শাখা সংগঠনগুলি। তৃণমূলের দাবি, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে কর্মসূচি করার আগে সেনার অনুমতি নেওয়া হয়েছিল। স্পট বুকিং বাবদ ২০ হাজার টাকা সেনার কাছে জমাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ হঠাৎই দেখা যায় সেনা বাহিনীর জওয়ানরা এসে তৃণমূলের ধর্না মঞ্চ খুলে ফেলতে থাকেন। খবর পেয়ে সেখানে এসে তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় কথা বলেন সেনা আধিকারিকদের  সঙ্গে। আরও একটু সময় দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু সেনার তরফে তা শোনা হয়নি বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে নবান্ন থেকে ছুটে আসেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, আমাকে আসতে দেখেই ২০০ জন সেনা জওয়ান ছুটে পালালেন। আমি বললাম, দেশের সুরক্ষায় সেনার জন্য আমরা গর্বিত। আপনারা কেন ছুটে পালাচ্ছেন?
এরপর ভাঙা মঞ্চ, অর্ধেক খুলে ফেলা প্যান্ডেল সহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন মমতা। সঙ্গে ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিমরা। ওই ভাঙা মঞ্চে দাঁড়িয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তাঁর বক্তব্য, এই মঞ্চ ভাঙা সেনার কাজ নয়। তারা আমাদের বলতে পারত বা কলকাতা পুলিসকে জানাতে পারত। তাহলেই আমরা দলের তরফে মঞ্চ খুলে দিতাম। ডুরান্ড কাপে আমরা সেনাকে সর্বোতভাবে সাহায্য করেছি। ওরা ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকেও বিষয়টি বলতে পারত। কিন্তু ওরা কাউকে কিছু জানায়নি। তাঁর বক্তব্য, এখানে সেনার কোনও দোষ নেই। বিজেপির দিল্লির নেতা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথায় ওরা এ কাজ করেছে। সেনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে অপব্যবহার করছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ঝাঁঝ বাড়িয়ে মমতা ঘোষণা করেন, নরেন্দ্র মোদি বা বিজেপির কথায় আমরা কর্মসূচি করব না। এবার থেকে প্রতিদিন আমাদেরকর্মসূচি হবে।
তবে সেনা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়েজানানো হয়েছে, দু’দিনের জন্য কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মঞ্চটি প্রায় এক মাস ধরে রয়েছে। আয়োজকদের কাছে বেশ কয়েকবার বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা মঞ্চটি সরায়নি। কলকাতা পুলিসকেও অবহিত করা হয়। তারপরই অস্থায়ী মঞ্চ সরানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ