


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১) এপিক নম্বর: এসভিএফ৮২৮০৯৪৩। নাম: টিকা কুমারী আচার্য। স্বামীর নাম: ওয়াইটিডিটিআর (অর্থহীন কিছু অক্ষর)। বাড়ির নম্বর: ০ ২) এপিক নম্বর: এসভিএফ৮২৪৯৩৪৪। নাম: টেক রাজ সাপকোটা। পিতার নাম: ডিএফওজেজিএআইডিএফ (অর্থহীন কিছু ইংরেজি অক্ষর)। বাড়ির নম্বর: ০।
কর্ণাটকের ভোটার লিস্টে জ্বলজ্বল করছে এমন অন্তত এক লক্ষ নাম! বৃহস্পতিবার সেই তালিকা সামনে এনে কার্যত ‘অ্যাটম বোমা’ ফাটালেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। এদিন একই ফ্রেমে একদিকে তিন নির্বাচন কমিশনার, অন্যদিকে মোদি-শাহর ছবি রেখে ছারখার করলেন প্রধানমন্ত্রীকে। বললেন, ভুয়ো ভোটারেই কুর্সিলাভ মোদির। গত লোকসভা ভোটে ২৫টি আসনে বিজেপির জয়ের মার্জিন ৩৩ হাজারের চেয়েও কম। আর ক্ষমতার কুর্সিতে ফিরতে নরেন্দ্র মোদির ঠিক ২৫টি আসনের ভোট চুরিরই দরকার ছিল। সেটা ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়েই নির্বাচন কমিশন আমাদের ডিজিটাল ভোটার তালিকা দিচ্ছে না। সিসিটিভি ফুটেজ দিচ্ছে না। চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন রাহুল—গত ১৫ বছরের ভোটার-তথ্য বিরোধীদের না দেওয়া হলে প্রমাণ হয়ে যাবে যে, বিজেপিকে জেতাতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত কমিশন, যা ক্রিমিনাল অফেন্স!
এদিন দিল্লিতে এক বিশেষ সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল অভিযোগ তোলেন, লোকসভায় ৭০-১০০ আসনে ভোটার তালিকায় কারচুপি হয়েছে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কমিশন ডিজিটাল কপি দেয়নি। কাগজের কপি দিয়েছে, যেখানে জালিয়াতি ধরা অত্যন্ত কঠিন। স্রেফ কর্ণাটকের একটি লোকসভা এবং একটি বিধানসভা আসনের রেকর্ড পরীক্ষা করতেই ছ’মাস সময় লেগেছে। কিন্তু যা তথ্য সামনে এসেছে, তাতেই স্পষ্ট ভোট চুরি হয়েছে। না হলে ক্ষমতায় আসত ইন্ডিয়া জোট।
কর্ণাটকের ওই লোকসভা কেন্দ্র হল বেঙ্গালুরু-সেন্ট্রাল। তার অধীন মহাদেবপুরা বিধানসভা আসনকে বেছে নিয়েছে কংগ্রেস। লোকসভায় ওই কেন্দ্রে বিজেপি জিতেছে ৩২ হাজার ৭০৭ ভোটে। আর মহাদেবপুরায় ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৪৬ ভোটে। রাহুলের দাবি, ওই কেন্দ্রে ১ লক্ষ ২৫০ ভোট জালিয়াতি হয়েছে। ৭০ বছর বয়সি সকুন রানি কী করে নতুন ভোটার হতে পারেন? তাও আবার দু’জায়গায় নাম তোলা হয়েছে! আসলে কমিশনের যোগসাজশে বিজেপি কর্মীরা নয়া ভোটার সেজে কখনও হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটকে ঘুরে ঘুরে ভোট দিচ্ছে। তাঁর সাফ কথা, কমিশন নিরপেক্ষ না হলে গণতন্ত্রের বিপদ!
যাবতীয় অভিযোগ অবশ্য ভিত্তিহীন বলেই দাবি কমিশনের। সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ সমাজমাধ্যমে রাহুলকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে তারা, ‘মুখে যা বলেছেন, তা (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যার মধ্যে কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে হলফনামা দিয়ে জানান। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’