


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পরিবর্তনের যাত্রায় সেভাবে সাড়া মিলছে না। রাজ্যে দলীয় সংগঠনের হালও বিশেষ সুবিধাজনক নয়। সবমিলিয়ে বাংলায় ভোটের আগে যথেষ্টই চাপে বিজেপি। এই আবহে গেরুয়া শিবিরের নদরে দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী প্রবাসী বাঙালিরা। দলীয় সূত্রের খবর, রাজ্যে ভোট রয়েছে, এমন প্রবাসী বাঙালিদেরও নির্বাচনি আবহে ঘরে ফেরাতে মরিয়া বিজেপি। কিন্তু এব্যাপারে তারা সঠিক কোনো দিশা পাচ্ছে না। কোন পথে প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা হবে, তা নিয়ে আঁধারে গেরুয়া শিবির।
জানা গিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বঙ্গীয় সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বিজেপি নেতাদের একটি অংশ। ওই সংগঠনগুলির মাধ্যমে লক্ষ্য পূরণের প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন অসংখ্য বাঙালি রয়েছেন, যাঁদের ভোট রয়েছে বাংলাতেই। এই ভোটারদের সামান্য অংশই নির্বাচনের সময় রাজ্যে গিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেন। বাকিদের ভোট কার্যত ‘নষ্ট’ই হয়। বিজেপির অন্দরের ব্যাখ্যা, এভাবে ভোট ‘নষ্ট’ হওয়া এবার আটকাতে চাইছে দল। কিন্তু পরিকল্পনা কার্যকরের সঠিক দিশা পাচ্ছে না তারা।
রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে যে, এব্যাপারে ইতিমধ্যেই সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় পার্টি। প্রবাসী বাঙালিদের সঙ্গে যোগাযোগ সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানাতে বলা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপির তথাকথিত যে ‘বেঙ্গলি সেল’ রয়েছে, তাদের ইতিমধ্যেই এবিষয়ে সক্রিয় করা হয়েছে। মূলত ওইসব ‘সেল’-এর মাধ্যমেই রাজ্যে রাজ্যে বিভিন্ন বাঙালি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এরই পাশাপাশি বাঙালি সাংসদ কিংবা বাংলার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত সাংসদ অথবা বিধায়কদের উপরও এসংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দলীয় নেতৃত্বের একাংশ ব্যাখ্যা দিয়েছে, প্রবাসী বাঙালি ভোটারদের কাছে দু’টো রাজ্যের ফারাক আরও বেশি স্পষ্ট। সেটা ইতিবাচক কিংবা নেতিবাচক দু’রকমই হতে পারে। বিজেপি ইতিবাচক বিষয়কেই ‘এনক্যাশ’ করতে চাইছে।