নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলার মণ্ডল সভাপতিদের নাম ঘোষণার কথা ছিল বুধবার। কিন্তু দলের নেতৃত্ব অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীকোন্দল সামলাতে না পারায় সবক’টি মণ্ডলের সভাপতির নাম চূড়ান্ত করতে পারেনি। ২৯টির মধ্যে ১৩টি মণ্ডলের সভাপতির নাম ঠিক করা যায়নি। ফলে ছাব্বিশের ভোটের আগে এ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে নেতৃত্ব। কবে সবক’টি মণ্ডলের সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বাংলায় বিজেপির পায়ের তলার জমি আলগা হয়েছে। ২০২২ সালের পুরসভা ভোট এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে কাঙ্ঘিত ফল করতে পারেনি পদ্মপার্টি। সেই ধারা অব্যাহত ছিল চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনেও। এ নিয়ে বিজেপির অন্দরের দ্বন্দ্ব মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নেতৃত্বের। এমনটাই মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। গত লোকসভা ভোটে ভরাডুবির পর বিজেপি ‘সদস্যতা অভিযান’ করে। গোটা রাজ্যের পাশাপাশি বারাসত সাংগঠনিক জেলাতেও ‘সদস্যতা অভিযান’-এ নেতৃত্ব ‘টার্গেট’ বেঁধে দিলেও তা পূরণ করতে পারেননি স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বারাসত সাংগঠনিক জেলায় রয়েছে মোট ২৯টি মণ্ডল। প্রথম ধাপে ১৬টি মণ্ডলের সভাপতির নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু বাছাই প্রক্রিয়ায় নিয়ম না মানার কারণে ১৩টি মণ্ডলের সভাপতির নাম এখনও ঘোষণা করতে পারেনি নেতৃত্ব। তাঁদের মধ্যে আবার সকলে নির্বাচিত হবেন না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের মনোনীত করবেন জেলা সভাপতি। এই তালিকায় রয়েছে দেগঙ্গা, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, অশোকনগর, রাজারহাট-নিউটাউনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা এলাকা রয়েছে। এমনিতেই বিজেপির বারাসত সাংগঠনিক জেলা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জীর্ণ। গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে তার প্রতিফলন পড়েছে। এরপর দলে সাংগঠনিক রদবদল হয়েছে। বারাসতে নতুন জেলা সভাপতি হয়েছেন রাজীব পোদ্দার। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। আরএসএসের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু। পরে বিজেপির সংগঠনে নাম লিখিয়েছেন। তাঁর উপরেই ভরসা করেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে, নতুন সভাপতি কত দ্রুত দলীয় ক্ষত সারাতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘বেনিয়ম’ হলে তা নিয়ে যে ফের আন্দোলন হবে, তার ইঙ্গিত দিয়েছে কর্মীদের একাংশ। এ বিষয়ে বিজেপির রাজ্য নেতা তাপস মিত্র বলেন, সাময়িক সমস্যার জন্য সব মণ্ডলের সভাপতির নাম চূড়ান্ত করা যায়নি। আগামী এক-দু’দিনের মধ্যেই সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হবে। বারাসতে আমাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা যথেষ্ট। ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল তা টের পাবে। তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী বলেন, আসলে ফাঁকা কলসির আওয়াজ বেশি। আর সেই অবস্থা এখন বঙ্গ বিজেপির। ওদের নিজেদের নেতারা একে অপরের ছায়া স্পর্শ করছে না। অপেক্ষা করুন, কয়েকদিনের মধ্যেই তাদের সংগঠনের কঙ্কালসার দশা দেখতে পাবেন।