চৈতন্য মহাপ্রভু, রামকৃষ্ণদেব ও স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিধন্য প্রাচীন জনপদ বরানগর। ইংরেজ আমলে বহু বীর বিপ্লবীও এখানে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ভগৎ সিং। ওই সময় বরানগরে পালপাড়ার কাছে যোগেন্দ্র বসাক রোডে থাকতেন বিপ্লবীদের ‘ব্রহ্মা’ নামে খ্যাত যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে তিনি ‘নিরালম্ব স্বামী’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন। বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, পুলিসের সতর্ক নজর এড়িয়ে ১৯২৯ সালের ৯ এপ্রিল কলকাতায় আসেন ভগৎ সিং। ১০ এপ্রিল তিনি বরানগরে আসেন নিরালম্ব স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে। এর কিছুদিন পরেই সেন্ট্রাল অ্যাসেম্বলিতে বোমা ফেলা হয়। কর্তার সিং সরোবাই ছিলেন ভগৎ সিংয়ের আদর্শ। কলকাতায় এসে তিনি নিরালম্ব স্বামীর আশীর্বাদ চাইতে এসেছিলেন। বরানগরের আঞ্চলিক ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, নিরালম্ব স্বামী ১৯৩০ সালের ৫ জানুয়ারি বরানগরে দেহত্যাগ করেছিলেন। মৃত্যুশয্যার পাশে ছিলেন তাঁর ভাই ছোট ভাই ও সাক্ষাৎ শিষ্য বিজয় বসন্ত বসাক। উত্তর কলকাতার কাশীপুর শ্মশানে নিরালম্ব স্বামীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সন্তোষকুমার অধিকারীর ‘সন্ত্রাসবাদ ও শহীদ ভগৎ সিং’ গ্রন্থে বরানগরে ভগৎ সিং-এর আগমন সম্পর্কে রয়েছে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে এইভাবে— ‘কলিকাতা ত্যাগ করার আগে ভগৎ গেলেন একটা ট্যাক্সি নিয়ে বরানগরে নিরালম্ব স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে। নিরালম্ব স্বামী অর্থাৎ যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় বিপ্লববাদ প্রচারে...শ্রীঅরবিন্দের সাথী এই মানুষটি মাথা নুইয়ে মাধবী গেট পেরিয়ে এসে উঠোনে দাঁড়ালেন। ভগৎ সিং হাতের সুটকেস নামিয়ে রেখে নিরালম্ব স্বামীকে প্রণাম করলেন।’ বি টি রোডের ধারে বরানগর থানার কাছে একটি স্মৃতিফলক আজও সেই ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। প্রতি বছর বীর বিপ্লবীর জন্ম ও আত্মোৎসর্গ দিবসে সেখানে ফুল-মালা দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ জানানো হয়। বিপ্লবীর স্মৃতিতে ডানলপ উড়ালপুলটি তাঁর নামেই উৎসর্গ করা হয়েছে।



