


সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: এবছর পয়লা বৈশাখ বাঙালির কাছে একটু অন্যরকম। একদিকে ভোটের তপ্ত হাওয়া, অন্যদিকে তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার যন্ত্রণা। এই যন্ত্রণা উপশমের সংকল্প করতেই আজ মন্দিরে যাবেন আমজনতা। তৃণমূলের দাবি, বাঙালির যন্ত্রণা বাড়ানোর পিছনে রয়েছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে তারা বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়েছে। তাই বাঙালি এবার মন্দিরে গিয়ে বাংলা বিরোধী শক্তিকে পরাস্ত করার শপথ নেবে। বর্ধমান দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাস বলেন, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতিই জানে না। বারবার বাংলাকে অপমান করেছে। বাংলা ভাষায় কথা বললেই ওদের কাছে বাংলাদেশি। তাই নতুন বছরে বাংলা বিজেপিকে হারানোর শপথ নেবে। মেমারির তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদার বলেন, যারা এদেশের বংশ-পরম্পরায় রয়েছে, তাদের নামও বিজেপি ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। তাই বাংলা এবার নতুন বছরের শুরুটা অন্যরকমভাবে করবে। মন্দিরে গিয়ে প্রতিটি বাঙালি বাংলা বাঁচানোর শপথ নেবে। তারা জানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতেই বাংলা সুরক্ষিত।
কাঁকসায় তৃণমূল নেত্রীর সভায় এসেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা অহনা বৈরাগী। তিনি বলেন, আমার এক আত্মীয়র জন্ম এ দেশেই। তাঁর বাবা মাও এখানে জন্মগ্রহণ করেছেন। তারপরও তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। এই আতঙ্ক দূর করার জন্য বছরে প্রথম দিনেই আমরা মন্দিরে যাব।
আউশগ্রামের বাসিন্দা সুবল দাস বলেন, প্রতিবছর পয়লা বৈশাখ মন্দিরে যাই পরিবারের মঙ্গল কামনায়। এবার যাব রাজ্যের মঙ্গল প্রার্থনা করতে। এসআইআরের নামে মানুষকে যেভাবে কষ্ট দেওয়া হল, তার বদলা নিতেই হবে। স্থানীয়রা বলেন, প্রতি বছরই পূর্ব বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দির ও বড় মা সহ বিভিন্ন মন্দিরে ভিড় উপচে পড়ে। আমজনতা লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দেন। এবার রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরাও মন্দিরে যাবেন।
বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র বলেন, মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য প্রার্থনা নিয়ে মন্দিরে যাবেন। এই কয়েক বছরে বাংলা পিছিয়ে পড়েছে। আমিও এই দিন বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে অশুভ শক্তির পরাজয় প্রার্থনা করব। ভাতারের তৃণমূল প্রার্থীর শান্তনু কোঁয়ার বলেন, বিজেপি বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত নয়। তারা বিহার, উত্তরপ্রদেশের সংস্কৃতি এই বাংলায় চালু করতে চায়। বাঙালি শুভদিনে বাড়িতে মাছ নিয়ে আসে। বিজেপি নেতারা বলছে তারা ক্ষমতাই এলে মাছ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। যদিও তার আগে বাঙালি বাইরে থেকে আসা বিজেপি নেতাদের গণতান্ত্রিকভাবে শিক্ষা দিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেবে। নতুন বছরে বাঙালির সংকল্প হবে বিজেপি হটিয়ে দেশ বাঁচাও। অপমান, বঞ্চনার জবাব নেবে।
এদিকে বছরের প্রথম দিন প্রতিটি মন্দিরে ভিড় হবে ধরে নিয়ে কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছে। সর্বমঙ্গলা বীরহাটা, যোগাদ্যা মন্দিরে ভিড় সামাল দেওয়ার জন্য আলাদা আলাদা লাইন থাকছে। সেই লাইনে আমজনতার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের নেতারা ও দাঁড়াবেন। বাংলা বাঁচানোর সংকল্পই হবে এদিন জোলার বাসিন্দাদের প্রার্থনা। এমনটাই বলছেন শাসক দলের নেতারা।