Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলা নববর্ষ ইতিহাসের সুলুকসন্ধান

নববর্ষের সঙ্গে সাবেক নবাবিমুলুক মুর্শিদাবাদের যোগ অত্যন্ত নিবিড়। বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ তাঁর অধীনস্থ রাজা ও জমিদারদের উপর নবাবি কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য বৈশাখে ‘পুণ্যাহ’ প্রথা চালু করেন।

বাংলা নববর্ষ ইতিহাসের সুলুকসন্ধান
  • ১৫ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: নববর্ষের সঙ্গে সাবেক নবাবিমুলুক মুর্শিদাবাদের যোগ অত্যন্ত নিবিড়। বাংলার নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ তাঁর অধীনস্থ রাজা ও জমিদারদের উপর নবাবি কর্তৃত্ব বজায় রাখার জন্য বৈশাখে ‘পুণ্যাহ’ প্রথা চালু করেন। এই প্রথা অনুসারে সেই সময়ের জমিদাররা নৌকা, পালকিতে করে মুর্শিদাবাদে এসে নবাবের দরবারে সারা বছরের খাজনা জমা দিতেন। নবাব খুশি হয়ে এক এক জমিদারকে তাঁদের পদমর্যাদা অনুসারে রত্নখচিত পাগড়ি, জমকালো পোশাক ও কোমরবন্ধ দান করতেন। এমনই এক অনুষ্ঠানে বাংলার নানা অঞ্চল থেকে একসঙ্গে প্রায় চারশো জমিদার এবং বিভিন্ন ছোট ছোট রাজা এসে খাজনা জমা দিয়েছিলেন। মুর্শিদকুলি খাঁ একে পুণ্যাহ নাম দেন। প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল হালখাতারই আর এক রূপ।  

Advertisement

এটি বাংলায় হালখাতা হিসেবেই এখন জনপ্রিয়। তবে এই ‘হাল’ শব্দটি সংস্কৃত ও ফারসি, দু’টি ভাষাতেই পাওয়া যায়। সংস্কৃত ‘হল’ শব্দের অর্থ লাঙল। তার থেকে বাংলায় এসেছে হাল। আর ফারসি ‘হাল’ মানে নতুন। আজকের পয়লা বৈশাখে সে কালে নববর্ষ পালনের উৎসব হতো না, এটি ছিল শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের নতুন খাতা খোলার দিন। আর এইসময় রাজা, মহারাজ, সম্রাটরা প্রজাদের কাছ থেকে কৃষিজমির খাজনা আদায় করতেন। 
ভারতে মোঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার পর সম্রাটরা হিজরি পঞ্জিকা অনুসারে কৃষিপণ্যের খাজনা আদায় করতেন। হিজরি সন গণনা করা হতো চাঁদ দেখে। আর চাষবাস নির্ভর করত সৌরবছরের উপর। এতে অসময়ে কৃষকদের খাজনা দিতে হতো। সেজন্য সম্রাট আকবর ‘ফসলি সন’ চালু করেন। পরে যা বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিত হয়। আবার অনেকের মতে বাংলার রাজা শশাঙ্ক এই বঙ্গাব্দের সূচনা করেন। তবে, বঙ্গাব্দ চালু করেন কে? মুঘল সম্রাট আকবর নাকি গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক? এ নিয়ে বিতর্ক অনেক দিনের। 
বহরমপুরের ইতিহাসবিদ তথা প্রবীণ রমাপ্রসাদ ভাস্কর বলেন, বাংলা নববর্ষের উৎপত্তি নিয়ে নানা মতবাদ আছে। রাজা শশাঙ্ক এই বঙ্গাব্দের সূচনা করেছিলেন বলেই অনেকে মনে করেন। তাঁদের মতে, ষষ্ঠ শতকের শেষ দশকে গুপ্ত সাম্রাজ্যের সামন্ত রাজা এবং পরে স্বাধীন সার্বভৌম গৌড়ের শাসক শশাঙ্ক নিজের শাসনকালের সূচনাকে স্মরণীয় করে রাখতে সূর্যসিদ্ধান্ত ভিত্তিক বর্ষপঞ্জি বঙ্গাব্দের সূচনা করেন। আবার অনেকেই বলেন, শেষমেশ মুঘল সম্রাট আকবর যখন ভারতের মসনদে বসেন, তখন এই সমস্যা দূর করার কথা ভাবা হল নতুন সনের। ১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে চালু হয় এই নতুন বাংলা সাল। লোকমুখে তার নাম দাঁড়িয়েছিল ‘ফসলি সন’। পরবর্তী সময়ে এই ফসলি সনই বাংলা সাল বা ‘বঙ্গাব্দ’ নাম হয় বলে মনে করেন অনেক গবেষক। • নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ