Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বাংলার বাণিজ্য সম্মেলন লন্ডনে, বিনিয়োগের ডাক মমতার, চাইলেন সরাসরি বিমান

দুপুর আড়াইটে বাজতে মিনিট চারেক বাকি তখনও। মধ্যাহ্নভোজের পর লন্ডনের সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেলের এডওয়ার্ডিন হলের বাণিজ্য সম্মেলন

বাংলার বাণিজ্য সম্মেলন লন্ডনে, বিনিয়োগের ডাক মমতার, চাইলেন সরাসরি বিমান
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

রূপাঞ্জনা দত্ত, লন্ডন: দুপুর আড়াইটে বাজতে মিনিট চারেক বাকি তখনও। মধ্যাহ্নভোজের পর লন্ডনের সেন্ট জেমস কোর্ট হোটেলের এডওয়ার্ডিন হলের বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চে মাঝের চেয়ারে এসে বসলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাদা শাড়ির উপর সাদা ফুলস্লিভ সোয়েটার, সঙ্গে সাদা হাফ জ্যাকেট। গলায় নীল সাদা শাল। ডানদিকে মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ। আর বাঁদিকে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী। পিছনের নীল হোর্ডিংয়ে বড় বড় হরফে লেখা ‘অপর্চুনিটিজ ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’। সেই বার্তাই ধ্বনিত হল সম্মেলনের প্রতিটা মুহূর্তে। 

Advertisement

মঙ্গলবারের বাণিজ্য সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছিল ফিকি, ডব্লুবিআইডিসি এবং ইউকেআইবিসি। বৈঠক শুরুর আগে লর্ড স্বরাজ পলের সঙ্গে দেখা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আমন্ত্রিত শিল্পপতিদের সঙ্গে বার্তা বিনিময় করতে গিয়ে মমতা প্রথমেই বলেন, ‘আমি ব্রিটেনকে ভালোবাসি। পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে আপনাদের আগ্রহ দেখে আমি সত্যিই আপ্লুত। এখানে ব্রিটিশ এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধি রয়েছেন। তাঁর কাছে আর্জি, কলকাতা-লন্ডন একটা সরাসরি বিমান কি চালানো যায় না? এতে যাতায়াত অনেকটাই সহজ হবে। ৮ ঘণ্টার দূরত্ব কেন ১৮ ঘণ্টায় আসতে হবে বলুন তো! কলকাতা, বাগডোগরা বিমানবন্দরে জ্বালানির উপর আমরা কর ছাড় দিই। আপনারা সরাসরি বিমান চালানোর জন্য প্রস্তাব নিয়ে এলে অতিরিক্ত ছাড় পাবেন। সঙ্গে কথা দিচ্ছি, একটাও আসন ফাঁকা থাকবে না।’ সভাগৃহে তখন করতালির ঝড়। থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা বোঝাতে তুলে ধরেন জিডিপির পরিসংখ্যান। বলেন, ‘রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো লড়াই করছি আমরা। দেশের জিডিপির থেকে বাংলার জিডিপি বেশি। মূল্যবৃদ্ধির হার দেশের থেকে বাংলায় কম। সর্বত্র বেকারত্বের হার বৃদ্ধি পেলেও ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে আমরা তা ৪৬ শতাংশ কমাতে সফল হয়েছি। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইজ বেস্ট বেঙ্গল।’
বৈঠকে রাজ্যের শিল্পবান্ধব পরিবেশ নিয়ে শুরুটা করেছিলেন মুখ্যসচিব। বললেন, ‘পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত তো বটেই, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে হল বাংলা।’ ব্রিটিশ বাণিজ্য মহলকে তাঁর আহ্বান, ‘আপনারা আসুন এখানে। দক্ষ শ্রমিকের অভাব হবে না।’ আরপি সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান শাশ্বত গোয়েঙ্কা শোনালেন সাত পুরুষ ধরে বাংলায় ব্যবসা করার সুখস্মৃতি। ব্যবসার পরিকাঠামো নিয়ে দরাজ প্রশংসা করেন অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। সেইসব কথার রেশ ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীর গলাতেও। উপস্থিত শিল্পপতিদের তাঁর বার্তা, ‘নেপাল-ভুটান-বাংলাদেশে ব্যবসা করতে গেলেও গেটওয়ে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা। সেই শহরের সঙ্গে লন্ডনের প্রচুর মিল। বাংলার চা শিল্প-পাট শিল্প তো জগৎসেরা। এগুলো বলার একটাই অর্থ। পশ্চিমবঙ্গ আপনাদের বিনিয়োগের আদর্শ ঠিকানা হতেই পারে।’ সেই প্রস্তাব লুফে নেন তেগা ইন্ডাস্ট্রিজের এমডি মেহুল মোহাঙ্ক। পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, কল্যাণীতে ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে তাঁর সংস্থা।
শুরুটা হয়েছিল সোমবারের চা-চক্রে। ডিএনএ সিকোয়েন্সিং বিশেষজ্ঞ ডঃ লাকমল জয়সিংহে বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারতে যাচ্ছে আমাদের সংস্থা। বেঙ্গালুরুতে অফিস আছে, দিল্লিতেও করব। পরের লক্ষ্য কলকাতা।’

সম্পর্কিত সংবাদ