নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গেরুয়া সংগঠন ‘খোলা হাওয়া’র উদ্যোগে শনিবার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে প্রদর্শিত হল বিতর্কিত ছবি ‘দ্য বেঙ্গল ফাইলস’। খোলা হাওয়া আয়োজিত শো’এ ন্যাশনাল লাইব্রেরিজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তার বলয়। মাছি গলাও কঠিন এমন পাহারা। মূল ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে টিকিট বাধ্যতামূলক। তারপর ব্যাগ তল্লাশি, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ পরীক্ষা। এই কড়া ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সবাইকে। মূল ফটক পেরনোর পর আগ্নেয়াস্ত্র সহযোগে একপ্রকার রণসজ্জায় সেজে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এক ব্যক্তির মন্তব্য, ‘দেখে মনে হচ্ছে তো ওয়ার জোন!’ এমনই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেখানো হল বিতর্কিত বেঙ্গল ফাইলস। নিরাপত্তার বহরে দর্শকরা চমৎকৃত। সবার চোখ বড় বড়। সবমিলিয়ে সিনেমা দেখার উৎসাহ ধাক্কা খেয়েছে। তিলমাত্র আনন্দ উপভোগ করা যায়নি বলে আক্ষেপ উপস্থিত অনেকের।
প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশের মুখেও রণসজ্জায় সেজে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। মেটাল ডিটেক্টর বসানো দরজায়। তারপর প্রহরায় বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তাকর্মীরা। তাঁরা মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে আরও একবার দেহ পরীক্ষা করলেন। এই নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখার কারণ? গেরুয়া শিবিরের উদ্যোক্তারা নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে বলেছেন, ‘তাহলেই ভাবুন, কী অবস্থা!’ ছবি দেখতে একে একে বিজেপি নেতারা ভিতরে প্রবেশ করলেন। আর কর্মীরা সিনেমা দেখতে এসে ‘জয় শ্রী রাম’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে আসর গরম রাখলেন। অনেকের বক্তব্য, ‘সিনেমার শো না রাজনৈতিক কর্মসূচি, বোঝা যাচ্ছে না।’ সিনেমা শুরুর আগে মঞ্চে উঠলেন ছবির পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রী, অভিনেত্রী পল্লবী যোশী। উদ্যোক্তাদের তরফে স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কুদেব পন্ডা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে দর্শকদের উদ্দেশ্য করে বিবেক বলেন, ‘আজ ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। তরুণদের জন্য এই ছবি তৈরি করেছি। যাতে তাঁরা বাংলার ইতিহাস জানতে পারেন।’
দেখা গিয়েছে, প্রেক্ষাগৃহে প্রবেশের মুখে ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনার অংশটি বিরাট বড় কাটআউট করে দাঁড় করানো। সেই ১৯৪৯ সালের প্রস্তাবনা। যেখানে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ শব্দটি নেই। যে শব্দটি ১৯৭৬ সালে সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল।