Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিলীপ ঘোষ ইস্যুতে আড়াআড়ি ভাগ বঙ্গ বিজেপি, রাস্তায় মারামারি-গাড়ি ভাঙচুর

দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদঘাটনের  দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সস্ত্রীক সাক্ষাৎ-বৈঠক ইস্তক বিজেপির ‘গৃহযুদ্ধ’ তুমুল আকার নিয়েছে।

দিলীপ ঘোষ ইস্যুতে আড়াআড়ি ভাগ বঙ্গ  বিজেপি, রাস্তায় মারামারি-গাড়ি ভাঙচুর
  • ৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর ও তমলুক: দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের দ্বারোদঘাটনের  দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সস্ত্রীক সাক্ষাৎ-বৈঠক ইস্তক বিজেপির ‘গৃহযুদ্ধ’ তুমুল আকার নিয়েছে। কে কত বেশি গেরুয়া আদর্শে অনুপ্রাণিত, তা প্রদর্শনের লড়াই বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে পদ্মপার্টির অন্দরে ‘আদি’ ও ’দলবদলু’দের মধ্যে। সমাজমাধ্যমে ‘কুৎসিত-কদর্য’ ভাষায় লড়াই অব্যাহত দিলীপ শিবির বনাম বিরোধী শিবিরের। প্রত্যুত্তর দিতে আসরে নামছেন কখনও দিলীপবাবু আবার কখনও তাঁর ঘরণী। গত দু’দিন ধরে দিলীপবাবুর ‘চরিত্র’ ও ‘সম্পত্তি’ নিয়ে কুৎসিত ভাষায় একের পর এক পোস্ট করে চলেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং পরজীবী এক ব্লগারও। আলাদা আলাদা করে প্রত্যকের জন্য জবাব আসছে দিলীপ শিবির থেকে। লড়াইটা অবশ্য এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আড়াআড়িভাবে বিভক্ত গেরুয়া শিবির রাস্তায় নেমে হাতাহাতি-মারামারি’তেও জড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার যার সাক্ষী ছিল মেদিনীপুর শহর। দিলীপ ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জেলা বিজেপি সভাপতি শমিতকুমার মণ্ডলের উপর আক্রমণ চালায় বিরোধী শিবিরের লোকজন। শমিতবাবুর গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি মারধরও করা হয়। রাস্তায় ফেলে মারধর করা হয় তাঁর অনুগামীদের। বিষয়টি থানা-পুলিস পর্যন্ত গড়িয়েছে। এফআইআর হয়েছে বিজেপি’র একাধিক নেতার বিরুদ্ধে। 

Advertisement

বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ-বৈঠকের পরই বঙ্গ বিজেপির একটা অংশ প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির ‘আদ্যশ্রাদ্ধ’ করতে নেমে পড়ে। রাতে দীঘাতেই ছিলেন দিলীপবাবু। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে মনিংওয়াক পর্বে বিজেপির সেই অংশের সমালোচনায় ‘বিস্ফোরক’ হয়ে ওঠেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচ্ছিষ্ট খেয়ে নেতা হওয়ারা যেন তাঁকে বিজেপির নীতি-আদর্শ শেখাতে না আসেন, তা নিয়ে সতর্ক করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করায় যে বা যাঁরা চটেছেন, তাঁদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, কালীঘাটে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ি মমতার মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেছিলেন। আমরা সেই সংস্কৃতির লোক। রাজনীতিতে আমার কোনও শত্রু নেই। সবাই মিত্র। সবাইকে মিত্র করেছি বলেই বিজেপি এতটা বড় হয়েছে। সমাজমাধ্যমে পদ্মপার্টির দু’পক্ষের ‘কচলাকচলি’ অব্যাহত ছিল। তবে যে নিম্নরুচিতে গিয়ে পৌঁছেছে সেই ‘বাকযুদ্ধ’, তাতে দর্শক হিসেবে কেবল উপভোগই করছে তৃণমূল। জোড়াফুল শিবিরের বক্তব্য, বিজেপির সংস্কৃতিটা আসলে কী, দেখুক গোটা বাংলা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ