


ওয়াশিংটন: অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ। গভীর রাতে ঘুমে আচ্ছন্ন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। আচমকা একের পর এক বিস্ফোরণ। দেশের নানা প্রান্তে বহুতলে শুধু আগুন আর ধোঁয়া। ঘুম ভাঙার পর কোনও কিছু টের পাওয়ার আগেই সব শেষ। ততক্ষণে বেডরুমে ঢুকে পড়ে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। সঙ্গী ছিল নাইট স্টকার্স বাহিনী। বন্দি হন সস্ত্রীক মাদুরো। সময় লেগেছিল মাত্র ৩০ মিনিট। কীভাবে সফল হল এই অপারেশন? কেমন ছিল নেপথ্যের প্রস্তুতি? মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর, কয়েকবছর আগেই মাদুরোর উপর হামলা চালানোর ব্লু প্রিন্ট তৈরি হয়ে গিয়েছিল।
ভেনেজুয়েলায় ঢুকে কীভাবে অভিযান চালানো হবে, সেকথা মাথায় রেখে ডেল্টা ফোর্সের বিশেষ ট্রুপ তৈরি করা হয়। তবে সদস্য সংখ্যা বেশি ছিল না। কারণ ছোটো দল তৈরি করে মাদুরোর ডেরায় ঢোকাই ছিল মূল লক্ষ্য। এর জন্য কয়েকবছর আগে থেকেই রিসার্চ ওয়ার্ক শুরু করে দেয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। আমেরিকার গোয়েন্দারা মাদুরোর আশপাশেই ছিলেন। কিন্তু টের পাননি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট। মাদুরোর গতিবিধির উপর সবসময় নজর রাখা হত। তিনি কী খান, কোথায় কোথায় যান, সবই ছিল গোয়েন্দাদের নখদর্পণে। ধীরে ধীরে মাদুরোর সেফ হাউসে অভিযান চালানোর একটি ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা হয়।
এখানেই শেষ নয়। ওই সেফ হাউসের একটি রেপ্লিকা তৈরি করে বারবার মহড়া চালাতে থাকে মার্কিন সেনা। কোন দরজা দিয়ে ঢুকতে হবে, কোন দিকে দিয়ে হামলা করতে হবে, সবকিছুই ছকে নেওয়া হয়। এরপর সঠিক সময়ের অপেক্ষা। শুক্রবার গভীর রাত। ঘুমে ডুবে কারাকাস। পরিষ্কার আকাশ। প্রস্তুত মর্কিন বিমান। তৈরি ছিল ড্রোনও। একের পর এক শহরে আচমকা বোমা হামলা। ধীরে ধীরে মাদুরোর সেফ হাউসের দিকে এগোতে থাকে সেনা। পরিকল্পনা মতো বন্দি করা হয় মাদুরো ও তার স্ত্রীকে। শোয়ার ঘর থেকে তুলে নিয়ে আসা হয় তাঁদের। ট্রাম্পের কথায়, যেন কোনও টিভি শো দেখলাম।
মাদুরোকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন জেলে রাখা হয়েছে। স্ট্যাচু অব লিবার্টির কাছে অবস্থিত এই জেলটিতে একাধিক কুখ্যাত অপরাধী বন্দি হিসেবে থেকেছে। যার জন্য এটি ‘হেল অন আর্থ’ বলেও পরিচিত। তবে মাদুরোই প্রথম নন, ব্রুকলিনের জেলে এর আগে কোকেন পাচারের অভিযোগে হন্ডুরাসের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জুয়ান অরলান্ডো হার্নান্ডেজকেও বন্দি রাখা হয়েছিল। মার্কিন আদালত তাঁকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর জুয়ানকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।