নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বহু বছর আগে এলাকায় কলেরা রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব হয়। কথিত আছে, ইসলাম ধর্মাবলম্বী এক মহিলা মা কালীর স্বপ্নাদেশ পান। তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন, মা কালী বলছেন, স্থানীয় ধনীরামের পুকুরের ধারে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে রান্নাবান্না করে খাওয়া দাওয়া করলেই কলেরা নির্মূল হবে। সেই মতো দুই সম্প্রদায়ের মানুষ সেখানে খাওয়া দাওয়া সারেন। সেই থেকেই প্রতি বছর অগ্রহায়ণ মাসে অমাবস্যার পর প্রথম চাঁদ দেখা গেলে ধনীপুকুরের ধারে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে করে রান্নাপুজো করেন। রান্না অবশ্য সম্পূর্ণ নিরামিষ। ওই পুকুরের জল ব্যবহার করেই রান্নাবান্না করেন তাঁরা। তারপর একসঙ্গে বসে খাওয়া দাওয়া। সেই ধারা আজও বহমান। শতাব্দী প্রাচীন এই সংস্কার নিয়েই সোমবার হাবড়ার ফুলতলা মণ্ডলপাড়ায় হল রান্নাপুজো। শামিল হয়েছিলেন এলাকার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বহু মানুষ। গৃহবধূ রাখি মণ্ডল বলেন, ১০২ বছর ধরে বিশ্বাসে ভর করেই রান্নাপুজো চলে আসছে এখানে। এটাই স্থানীয় মানুষের সংস্কৃতি। বিয়ে করে এখানে আসার পর গত পাঁচ বছর ধরে রান্নাপুজো করছি। স্থানীয় বাসিন্দা আকবর মণ্ডল বলেন, পূর্বপুরুষদের মুখে শুনেছি, কলেরার প্রকোপ রুখতেই এই রান্নাপুজোর শুরু। সেই সময়ে কলেরা হলেই মারা যেত লোক। কিন্তু এখন সময় পরিবর্তন হয়েছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। কলেরার সংক্রমণও নেই। তবুও স্থানীয় বাসিন্দারা পুরানো সংস্কৃতি ও পরম্পরা বজায় রেখে রান্নাপুজো করে আসছেন।
Advertisement
তবে, বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী মঞ্চের সম্পাদক প্রদীপ সরকার বলেন, কলেরা জলবাহিত রোগ। বহু বছর আগে গ্রামের কোনও মহিলা সম্ভবত জল এবং খাদ্যের পরিবর্তনের জন্য গ্রাম থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে সবাইকে একসঙ্গে করে খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই থেকে এই নিয়ম স্থানীয়ভাবে চলে আসছে। এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই রান্না-খাওয়া।



