নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: সোনার বিস্কুট, মাদক থেকে বন্যপ্রাণ—বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের চোরাপথ দিয়েই চলে এসব পাচারের কারবার। তবে, সীমান্তে কড়া নজরদারিতে পাচার রুখতে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে বিএসএফ। ১ ডিসেম্বর বিএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবসে, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত একবছরে সাফল্য তুলে ধরেছে বিসেএফের দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ার। সেই তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তে সবচেয়ে উদ্ধার হয়েছে সোনার বিস্কুট। তার পরিমাণ ১৭০ কেজির বেশি। উদ্ধারে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মাদক। এছাড়া শুধু অনুপ্রবেশের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছে ১৩০০-র বেশি বাংলাদেশি। ১৯৬৫ সালের ১ ডিসেম্বর বিএসএফের প্রতিষ্ঠা হয়। তাই ১ ডিসেম্বর তাদের প্রতিষ্ঠা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয় দেশজুড়েই। সারা দেশের সঙ্গে রবিবার কলকাতায় অনুষ্ঠানটির উদযাপন করেছে দক্ষিণবঙ্গ ফ্রন্টিয়ারের সদর দপ্তর। ১ ডিসেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর, এই একবছরের সাফল্যের খতিয়ান প্রতিবার প্রতিষ্ঠা দিবসে প্রকাশ করা হয়। এদিন দক্ষিণবঙ্গের এবছরের খতিয়ান বলছে, এবার সবচেয়ে বেশি উদ্ধার হয়েছে সোনার বিস্কুট। মোট ১৭০ কেজি ৪৮ গ্রাম সোনা উদ্ধার করা হয়েছে। তার বাজার দাম প্রায় ১১৮ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা। গতবছর মোট ১৫৩ কেজি সোনা উদ্ধার হয়। এবার সোনার পাশাপাশি ১ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ১৫৯ কেজি রুপোও উদ্ধার করা হয়েছে। কিনারা হয়েছে মোট ১০৫টি সোনা পাচারের ঘটনার। এসব ঘটনায় ৮৬ জন ভারতীয় এবং ৩২ জন বাংলাদেশি পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোনার পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মাদক। এবার উদ্ধার করা হয়েছে ৬ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকার ৬৯,৭০২ ইয়াবা ট্যাবলেট, মোট ৩ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা মূল্যের ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৬২৮ বোতল ফেনসিডিল, ১২ কুইন্টাল ২৩ কেজি গাঁজা এবং ১৭ কেজি ৫ গ্রাম মাদক পাউডার। এই মাদক পাচারে ৪১ জন ভারতীয় এবং ১০ জন বাংলাদেশি মিলিয়ে মোট ৫১ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বিএসএফ। পাচার বন্ধের পাশাপাশি সাফল্য এসেছে অনুপ্রবেশ বন্ধেও। এই একবছরে ১,৭৪২ জন অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ১৩০১ জন। বাকিরা, অর্থাৎ ৪৪১ জন ভারতীয়। তাদের মধ্যে অনুপ্রবেশের সহায়তাকারী দালাল ৩৯ জন।



