


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘ফ্রিজ’ করার পরেও সাইবার জালিয়াতির টাকা গ্রাহককে ফেরাতে বিভিন্ন অজুহাত খাড়া করছে ব্যাংকগুলি। কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও জালিয়াতির শিকার ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে টালবাহানা করা হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। পুলিশকেও একাধিক প্রশ্নের মুখে ফেলছে ব্যাংকগুলি। বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় রাখা এবং গ্রাহকরা যাতে ব্লক করা টাকা দ্রুত ফেরত পান সেজন্য গাইডলাইন দিতে চলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। কোন ক্ষেত্রে টাকা ফেরত পাওয়া যাবে না, তারও স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে তাতে।
ডিজিটাল অ্যারেস্টের ফাঁদে পড়ে বা হাই রিটার্নের শর্তে বিনিয়োগের টোপ গিলে প্রতারিত হচ্ছেন বহু মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের অজান্তেই অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে টাকা ট্রান্সফার করছে প্রতারকরা। তদন্তকারীদের কথায়, টাকা পাচারের একাধিক ধাপ থাকে। প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপে টাকা ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযোগ পেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওই অ্যাকাউন্টটি ব্লক করা হয়। তাতে টাকা অন্যত্র চলে যাওয়া আটকে দেওয়া যায়। কিন্তু দেরি হলেই মানি ট্রেল পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে ওঠে। কলকাতাসহ সমস্ত জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট টাকা ফেরানোর উপর বেশি জোর দিয়েছে। এই কারণে রাজ্যজুড়েই টাকা ফেরানোর হার বেড়ে হয়েছে ২০ শতাংশ। কলকাতা পুলিশের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৩০ শতাংশ। একবছর আগেও এর পরিমাণ ছিল ৮ থেকে ১০ শতাংশ মাত্র। অভিযোগকারীর সুরাহা দেওয়াই লক্ষ্য পুলিশ কর্তাদের।
রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, ব্লক করা টাকা ফেরানোর জন্য আদালতে আবেদন জানাচ্ছে পুলিশ। কোর্ট অভিযোগকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত দিতে নির্দেশ দিচ্ছে। ওই অ্যাকাউন্ট যে অভিযোগকারীরই, সেই সংক্রান্ত নথিও যাচাই করছে আদালত। অভিযোগ, এই কপি ব্যাংকে নিয়ে যাওয়ার পর কোর্ট অর্ডারের বৈধতা নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলছে। ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরাসরি অভিযোগকারীর অ্যাকউেন্টে পাঠানো যাবে না বলে জানিয়ে দিচ্ছে ব্যাংকগুলি। এই অ্যাকাউন্টের মালিক মামলা করলে তারা কী করবে, সেই বিষয়ে ব্যাংকগুলির কাছে কোনও স্পষ্ট নির্দেশ নেই। ব্যাংকগুলি প্রশ্ন তুলছে, ব্লক করা অ্যাকাউন্টের মালিক টাকা দাবি করলে কোন তহবিল থেকে তারা তা মেটাবে? আইনি জটিলতার প্রসঙ্গও আনছে ব্যাংক।
এই সমস্যা মোকাবিলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কো-অর্ডিনেশন সেন্টার নির্দিষ্ট গাইড লাইন তৈরি করছে। সূত্রের খবর, সেখানে উল্লেখ করা থাকবে একমাত্র গ্রাহক নিজে ওটিপি বলেছেন কিংবা লিংকে তাঁর ক্লিক করার মতো ঘটনা ঘটলে টাকা ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে। বাকি সমস্ত ক্ষেত্রেই কোর্ট অর্ডার থাকলেই টাকা গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে দ্রুত ফেরাতে বাধ্য থাকবে ব্যাংকগুলি। ব্লক হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির কেউ মামলা করলে পুলিশ নথিসহ আদালতে প্রমাণ করবে যে সেগুলি জালিয়াতরা ব্যবহার করছে। মানি ট্রেন তুলে ধরে তদন্তকারীরা বোঝাবেন, কীভাবে জালিয়াতির টাকা একাধিক অ্যাকাউন্ট ঘুরে পাচার হচ্ছে।