Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুজো ঘিরে বাদুড়িয়া বাসস্ট্যান্ড যেন মিনি ভারত

শারদোৎসবে অবাঙালি আবেগে ভাসল বাদুড়িয়া। বাদুড়িয়া রকেট ক্লাবের দুর্গাপুজো এবার ৫৪ বছরে পড়ল। এবার তাদের মণ্ডপ সেজে উঠেছে রাজস্থানের শেরাওয়ালি মায়ের মন্দিরের আদলে।

পুজো ঘিরে বাদুড়িয়া বাসস্ট্যান্ড যেন মিনি ভারত
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুজয় মণ্ডল, বসিরহাট: শারদোৎসবে অবাঙালি আবেগে ভাসল বাদুড়িয়া। বাদুড়িয়া রকেট ক্লাবের দুর্গাপুজো এবার ৫৪ বছরে পড়ল। এবার তাদের মণ্ডপ সেজে উঠেছে রাজস্থানের শেরাওয়ালি মায়ের মন্দিরের আদলে। এখানে বাঙালিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পুজোয় মেতেছেন হিন্দুস্থানি, নেপালি, অসমিয়া, ওড়িয়া, পাঞ্জাবীরা। পুজোর উদ্যোক্তা প্রবীণ সত্যনারায়ণ গুপ্তা বলেন, ছয়ের দশকের শেষের দিকে তখন বাদুড়িয়ায় পাটের ব্যবসার রমরমা ছিল, সেই সময় অন্যান্য জায়গায় দুর্গাপুজো হলেও বাদুড়িয়া পুরনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কোনও পুজো হতো না। তখন বাদুড়িয়ার স্থানীয় বাঙালিদের সহযোগিতায় আমরা এই পুজো শুরু করি। সেই সময় যাঁরা সাহায্য করেছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মতিলাল সিংঘানিয়া। পরবর্তীকালে তিনি রকেট ক্লাবের সভাপতি হন। কর্মসূত্রে নেপাল থেকে বাদুড়িয়ায় এসেছিলেন দিল বাহাদুর থাপা। যিনি বিদ্যুৎ দপ্তরে চাকরি করতেন। অসম থেকে ব্যবসা করতে এসেছিলেন রঘুনাথ কর। এখানে পাটের গোডাউনে কাজ করতেন ওড়িশার বাসিন্দা বেনুধর নায়েক। এইসব মানুষের সহযোগিতাতেই সেই সময় দুর্গাপুজো শুরু হয়। এখন তাঁদের ছেলে-নাতিরা পুজোর আয়োজন করছেন। এই সময় বাদুড়িয়ার এই পুজোয় এলে মনে হবে, এ যেন মিনি ভারতবর্ষ, সব ভাষাভাষী মানুষের মিলনক্ষেত্র।  পাটের ব্যবসার অবনতির সঙ্গে সঙ্গে জৌলুস হারিয়েছে বাদুড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার এই পুজো। কিন্তু আবেগ রয়েছে আগের মতোই। নিষ্ঠা, ভক্তি, শ্রদ্ধা বিন্দুমাত্র কমেনি‌। এ বিষয়ে বর্তমান প্রজন্মের রঞ্জিত থাপা, বিশ্বনাথ নায়েকরা দাবি করেন, দুর্গাপুজোয় ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত আমরা এই উৎসবে মেতে থাকি। মায়ের কাছে আমাদের যাবতীয় মনষ্কামনা পূর্ণ করার আর্জি জানাই। মায়ের কাছে প্রার্থনা করি, পরজন্মেও যেন এই বাংলাই হয় আমাদের ঘর-বাড়ি।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ