নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আয়ুর্বেদে সারে ক্যান্সারও। নিজের অভিজ্ঞতা কথা উল্লেখ করে শুক্রবার এমনটাই জানালেন কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী প্রতাপ রাও যাদব। জানালেন, মধুমেয়, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতার মতো সমস্যা রুখতে এবং নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সক্ষম আয়ুর্বেদিক দাওয়াই। তাই রোগ নিরাময়ে অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি হয়ে শেষে আয়ুষ ওষুধে ‘একবার চেষ্টা করে দেখা যাক’ মানসিকতা ছাড়তে হবে। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির পাশাপাশি প্রাচীনকেও গ্রহণ করা উচিত বলে জানালেন মন্ত্রী।
আয়ুর্বেদে মধুমেহ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, তা প্রমাণিত বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রকের গবেষণা সংস্থা কাউন্সিল অব সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল রিসার্চ (সিএসআইআর) মধুমেহ নিয়ন্ত্রণে তৈরি করেছে ‘বিজিআর-৩৪’ নামে এক ওষুধ। গুরমার বা মধুনাশিনী নামে ওষুধি গুণসম্পন্ন গাছের অংশ ব্যবহার করে তৈরি। ফলে প্রাকৃতিক গুনসম্পন্ন গুল্মলতার চাষ বাড়াতে জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতাপ রাও যাদব। সাধারণ কৃষকদেরও ঔষধি গুনসম্পন্ন গাছগাছালির চাষ করতে উৎসাহিত করা হবে বলেই কৃষিমন্ত্রককে নোট পাঠিয়েছে আয়ুষ মন্ত্রক। যদিও সেই চাষে কৃষকদের বাড়তি লাভ কতটা নিশ্চিত, তার হিসেব কষা হয়নি।
জানা গিয়েছে, এবার থেকে প্রতি বছর ২৩ সেপ্টেম্বর পালিত হবে ‘আয়ুর্বেদ দিবস।’ এবারে আয়ুর্বেদ দিবস পালন হবে গোয়ায়। থিম— ‘আয়ুর্বেদ ফর পিপল অ্যান্ড প্ল্যানেট।’ তারই সাংবাদিক সম্মেলনে মহারাষ্ট্রের বুলদানার জনপ্রতিনিধি কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রী বলেন, আমার গ্রামে ব্যক্তিগত সহকারীর (পিএ) ওরাল ক্যান্সার হয়েছিল। ডানদিকের গালের মাংসপেশি গলে পড়ছিল। মুম্বইয়ের এক নামী ক্যান্সার হাসপাতাল চিকিৎসার পর ‘জবাব’ দিয়ে দেয়। তখন রাজস্থানের এক বৈদ্যর সন্ধান মেলে। চলে শেষ চেষ্টা। অবাক করার মতো বিষয়, ছ’ মাসের মধ্যে কোনও প্ল্যাস্টিক সার্জারি ছাড়াই ৯০ শতাংশ মুখ স্বাভাবিক। ক্যান্সারও গায়েব। ফলে আয়ুর্বেদে যে শক্তি আছে, হাতেনাতে দেখেছি।