Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খুনের চেষ্টা: তৃণমূলের যুবনেতা সহ ১২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

দলীয় পঞ্চায়েত সদস্যের বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের চেষ্টার মামলায় বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সনসহ ১৩ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীর সাজা হল।

খুনের চেষ্টা: তৃণমূলের যুবনেতা সহ ১২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড
  • ২৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বর্ধমান: দলীয় পঞ্চায়েত সদস্যের বাবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুনের চেষ্টার মামলায় বর্ধমান উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারপার্সনসহ ১৩ জন তৃণমূল নেতা-কর্মীর সাজা হল। শুক্রবার তা ঘোষণা করল বর্ধমান আদালত। চেয়ারপার্সন কাকলি গুপ্তকে ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় তিনবছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে জেল আরও একবছর। ওইসঙ্গে ৩৪১ ও ৩৪ ধারায় তাঁকে একমাসের কারাবাস ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব সাজাই একসঙ্গে চলবে। বাকি ১২ জনকে ওই একই মামলায় ১০ বছর করে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তাঁদেরও জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে। 

Advertisement

উল্লেখ্য, গত সোমবারই ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। এদিন বর্ধমানের দ্বিতীয় ফার্স্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক অরবিন্দ মিশ্র এই সাজা ঘোষণা করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়ে চেয়ারপার্সনের আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস তাঁর মক্কেলের জামিন চান। সেই আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক। সিজেএম আদালতে বেলবন্ড জমা দিয়ে জামিনে মুক্তি পাবেন চেয়ারপার্সন। 
সাজা ঘোষণার আগে দোষীদের প্রত্যেকের বক্তব্য শোনেন বিচারক। কাকলিদেবী বিচারকের কাছে তাঁর গুরুতর অসুস্থতার কথা জানান। তার প্রেক্ষিতে তাঁর সাজা কমানো হয়েছে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে আরও রয়েছেন বর্ধমান–১ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের ব্লক যুব সভাপতি মানস ভট্টাচার্য, রায়ান-১ পঞ্চায়েতের প্রধান কার্তিক বাগ, রায়ান-১ অঞ্চলের তৃণমূলের সভাপতি শেখ জামাল। বাকিরাও তৃণমূলের কর্মী–সমর্থক।
চেয়ারপার্সনের সাজার মেয়াদ কম হওয়ায় দলের কর্মী-সমর্থকরা আদালত চত্বরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তবে বিচারক তাঁর রায়ে সরকারি আইনজীবী এবং পুলিসের তীব্র সমালোচনা করেন। বিচার চলাকালে কেস ডায়েরি থেকে ইনজুরি রিপোর্ট কীভাবে গায়েব হল, তা জানতে চান বিচারক। পরে অবশ্য হাসপাতাল থেকে তা আনার ব্যবস্থা করেন তিনি। চার্জশিট পেশ করার আগে আদৌ ইনজুরি রিপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তিনি যে অন্ধকারে, রায়ে তারও উল্লেখ রয়েছে। মামলা চলাকালীন কোনওরকম পোশাক, রক্তমাখা মাটি ও হামলায় বাজেয়াপ্ত হওয়া অস্ত্রশস্ত্র আদালতে পেশ না-করায় তিনি প্রশ্ন তোলেন। এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিচারক পূর্ব বর্ধমানের এসপিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ