Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দেড় মাস পরও ভেঙে রয়েছে আত্রেয়ীর বাঁধ

দেড় মাস পরও ভেঙে রয়েছে আত্রেয়ীর বাঁধ
  • ২৬ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, পতিরাম: বালুরঘাটে আত্রেয়ী বাঁধ তৈরির এক বছরের মধ্যেই পশ্চিম দিকের একাংশ ভেঙে গিয়েছে। বাঁধের ভাঙা অংশ দিয়েই বেরিয়ে যাচ্ছে জল। তাই এখন তেমন জল নেই আত্রেয়ীতে। ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে এই বাঁধ ভাঙার পর থেকেই কাজ শুরু করে সেচদপ্তর। লক্ষ্য ছিল,ভাঙা অংশ মেরামত করে আপাতত জল আটকে দেওয়া। কিন্তু দেড় মাস কেটে গেলেও বালির বস্তা নদীতে ফেলা ছাড়া আর কিছুই হয়নি। জল আটকাতে না পেরে কাজ ছেড়ে চলে গিয়েছেন ঠিকাদাররা। বর্ষা এলে বিপদ বাড়বে, এমন আশঙ্কা জেনেও কার্যত বসে রয়েছে সেচদপ্তর। 

Advertisement

সূত্রের খবর,জল বন্ধ করতে না পেরে আপাতত বাঁধের কাজ বন্ধ করা হয়েছে। ড্যামের কংক্রিটের নিচ দিয়ে জল বইছে। তা সংস্কারের জন্য জেলা সেচদপ্তরের কাছে পর্যাপ্ত ফান্ড নেই। মেরামতের জন্য রাজ্যের কাছে ৮৭ লক্ষ টাকা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই ফান্ড এলেই কাজ শুরু হবে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষায় জল এলেই বাঁধের একাংশ ফের ভেঙে যাবে। 
যদিও এনিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সেচদপ্তরের আধিকারিকরা। এনিয়ে কেউই মন্তব্য করতে চাননি। তবে জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা বলেন, বর্ষার আগেই ওই ড্যামে কাজ করার জন্য কথা হয়েছে। সেচদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বর্ষার আগেই ভাঙন রুখতে কাজটি করার জন্য তাঁদেরকে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে। 
এনিয়ে ড্যামের পশ্চিম পাড়ে চকভৃগুতে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এবিষয়ে টুম্পা হালদার বলেন,একেবারেই নিম্নমানের কাজ হয়েছে। তাই বাঁধটি এক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়েছে। দু’মাস হতে চলল,কিন্তু আজও জল বন্ধ করতে পারল না। ঠিকাদাররাও কাজ ছেড়ে চলে গিয়েছে। বর্ষায় এই বাঁধ আরও ভেঙে আমাদের বাড়িঘর তলিয়ে যাবে। প্রশাসন কী চোখ বন্ধ করে আছে? আরও এক বাসিন্দা কানাই হালদার বলেন, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শুধুমাত্র বালির বস্তা নদীতে দিয়েছে। কিন্তু তা কোনও কাজেই আসেনি। লোক দেখানো কাজ করে সেচদপ্তর চলে গিয়েছে। আর কেউ এলাকায় আসে না। আমাদের বিপদের মুখে ফেলে চলে গিয়েছে। 
প্রসঙ্গত, আত্রেয়ীর জল ধরে রাখতে ৩৩ কোটি টাকা ব্যয় করে বাঁধের কাজ করেছিল সেচদপ্তর। ওই বাঁধের কাজ শেষ হওয়ার প্রায় এক বছর যেতে না যেতেই খরা মরশুমেই ভেঙে পড়ে বাঁধটি। এরপরেই কলকাতার ডিজাইন অফিস থেকে একটি টিম ওই বাঁধ পরিদর্শন করে। তাদের নতুন করে একটি নকশা পাঠানোর কথা থাকলেও এখনও পাঠায়নি। এমনকী জল ধরে রাখতে যে বাঁধের কাজ শুরু হয়েছিল, তাও করতে পারেনি দপ্তর। প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বাঁধ এলাকায় আধিকারিকদের দেখা যায়নি। ফলে প্রবল আশঙ্কায় ভুগছেন স্থানীয়রা।

সম্পর্কিত সংবাদ