


পাটনা: ফের বিজেপি শাসিত রাজ্যে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের শিকার উত্তর-পূর্বের বাসিন্দারা। বিহারের পাটনা স্টেশনে গত ২ এপ্রিলের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সামনে এসেছে ঘটনার একাধিক ভিডিয়ো। অরুণাচল প্রদেশের একটি নাচের দলের তরুণীদের ‘চিংকি’, ‘মোমোসে’র মতো কটূক্তির মুখে পড়তে হল। জানা গিয়েছে, স্টেশনের শৌচাগারে যেতে চাইলে তরুণীদের কাছে পরিচয়পত্র দেখতে চান এক মহিলা। তরুণীরা এর প্রতিবাদ করে। এরপরই তাঁদের সম্পর্কে জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য করে ওই মহিলা।
এ ধরনের অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সরব হন ওই তরুণীরা। ভিডিয়োতে তাঁদের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা অরুণাচলের বাসিন্দা। দেশের সর্বত্র যেতে চাই। কিন্তু এই ধরনের কিছু মানুষের জন্য আমরা ভয় পাই। উনি আমাদের চিংকি, চীনা, মোমোস বলেছেন।’ এরপরেই সাফাইয়ের সুরে অভিযুক্ত মহিলা ইংরাজি ভাষায় বলেন, ‘আমার সবচেয়ে পছন্দের খাবার মোমো।’ তরুণীরা বলেন, ‘এই ধরনের কিছু মানুষের জন্য দেশের মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। দেশের মানচিত্র সম্পর্কে এদের কোনো ধারনাই নেই। এমনভাবে ইংরাজি বলছেন, যেন সবকিছু জানেন। কিন্তু এই অসভ্য, অশিক্ষিত মানুষরা আসলে কিছুই জানে না।’ রেল পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত মহিলার মানসিক সমস্যা রয়েছে। এর আগেও একাধিক বার পাটনা স্টেশনে অন্যদের বিরক্ত করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। মহিলার পরিবারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
যদিও এই ঘটনা একেবারেই কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েকমাসে একের পর এক উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দা বিজেপি শাসিত রাজ্যে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন। মাসদু’য়েক আগেই খোদ রাজধানী দিল্লিতে একই রকম হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন উত্তর-পূর্বের তিন মহিলা। একইভাবে উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও একই ঘটনা ঘটেছে। উত্তরাখণ্ডে খুন হয়েছিলেন ত্রিপুরার এক এমবিএ পড়ুয়া।