Bartaman Logo
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চিনির মঠ বানাচ্ছেন না কারিগররা ধুঁকছে বাংলার প্রাচীন মিষ্টান্ন

দোলের দিন আর ফুটকড়াই আর ছাঁচে ফেলা চিনির মঠ লাগবেই লাগবে। তবে স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালি এখন ‘হোয়াইট পয়জন’ চিনি থেকে মুখ ফিরিয়েছে। ফলে দোল উৎসবে অনেক জায়গাতেই মঠ-ফুটকড়াই বাদ।

চিনির মঠ বানাচ্ছেন না কারিগররা ধুঁকছে বাংলার প্রাচীন মিষ্টান্ন
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দোলের দিন আর ফুটকড়াই আর ছাঁচে ফেলা চিনির মঠ লাগবেই লাগবে। তবে স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালি এখন ‘হোয়াইট পয়জন’ চিনি থেকে মুখ ফিরিয়েছে। ফলে দোল উৎসবে অনেক জায়গাতেই মঠ-ফুটকড়াই বাদ। মঠের জন্য এককালে বিখ্যাত ছিল হাওড়ার উনসানি অঞ্চল। এবছর সেখানকার এক ব্যবসায়ী মঠ তৈরিই করবেন না বলে জানালেন। কারণ চাহিদা নেই।

Advertisement

যদিও বুধবার কলকাতার বাজারগুলিতে দেখা গিয়েছে মঠ-ফুটকড়াইয়ের দেদার বিক্রি। অন্যদিকে হাওড়ার বহু জায়গায় চাহিদা কমেই চলেছে। তাই প্রস্তুতকারকরা বাংলার এই প্রাচীন মিষ্টান্নটি তৈরি করছেন না। যেমন হাওড়ার উনসানির শিউলিপাড়ার বাসিন্দা স্বপন মণ্ডল। তাঁর বাতাসার কারখানা। পূর্বপুরুষদের ব্যবসা। বাতাসা, মুড়কি, রঙিন মঠ ও ফুট কড়াই তৈরি করতেন এতদিন। রাসযাত্রা ও দোলের আগে মঠ ও ফুট কড়াইয়ের চাহিদা থাকত তুঙ্গে। আন্দুল, সাঁতরাগাছি সহ হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় ও অন্য জেলাতেও মঠ পাঠাতেন স্বপনবাবু। এখন চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যবসা চালানোই সঙ্কটে। ফলে শুধুমাত্র বাতাসা বিক্রি করছেন। এমনকি দক্ষ শ্রমিকও মিলছে না। তাই এ বছর সামান্য পরিমাণ ফুট কড়াই তৈরি করছেন। মঠ করবেন না বলেই জানালেন স্বপনবাবু।
দোলের আগে হাওড়ার বাতাসা কারখানাগুলিতে ঢুঁ দিয়ে চোখে পড়েছে এই করুণ চিত্র। বাকসারার বাসিন্দা প্রভাস জানা নামে প্রবীণ এক ব্যবসায়ী বাজার-দোকানে মঠ, ফুটকড়াইয়ের প্যাকেট বিক্রি করেন। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকবছর ধরে ফুট কড়াইয়ের চাহিদা কমছে। এ বছর মাত্র একটি জায়গা থেকে অর্ডার পেয়েছি। আগামী প্রজন্ম হয়ত এই মিষ্টিটি চিনতেই পারবে না।’ প্রতিবছর জগাছার কারখানা থেকে মঠ কেনেন সুলগ্না বেরা। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলার জিনিসগুলো একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে। দেখে খারাপ লাগে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ