নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: মোটা টাকার বিনিময়ে নদীয়া জেলায় দেওয়া হচ্ছে রেশন ডিলারশিপ! ডিলারশিপ পিছু নাকি নেওয়া হচ্ছে পাঁচ লক্ষ টাকা। গুরুতর এই অভিযোগ তুলে তদন্ত চেয়ে জেলাশাসককে চিঠি দিলেন রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। যেখানে তিনি সরাসরি রেশনের কন্ট্রোলারের অফিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। চিঠিতে উল্লেখ না করলেও, প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সাংসদের দাবি, বাছাই করে তৃণমূলের লোকজনকেই দেওয়া হচ্ছে রেশনের ডিলারশিপ।
জানা গিয়েছে, জেলায় একশটির কাছাকাছি এরকম শূন্যস্থান রয়েছে। শনিবার নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদকে উদ্দেশ্য করে সাংসদ জগন্নাথ সরকার একটি চিঠি দিয়ে রেশন সম্পর্কিত বিষয়ে জেলা নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে তদন্ত চেয়েছেন। কী বলছেন চিঠিতে? সাংসদের দাবি, কেন্দ্রীয় আইন ভঙ্গ করে রেশন ডিলারশিপ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে সেই সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রচুর অসত্য তথ্য পেশ করা হচ্ছে। সরেজমিনে যে তথ্য তলাশ হচ্ছে তাতেও সম্পূর্ণ সত্য পরিবেশিত হচ্ছে না। ফলে সাংসদের দাবি, জেলাশাসক নিজে তদন্ত করলে জানা যাবে, দুর্নীতিতে ডিস্ট্রিক্ট কন্ট্রোলার যুক্ত রয়েছেন এবং মোটা টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি আরও দাবি করেন, ‘ফেয়ার প্রাইস শপ’ বা রেশন দোকানের জন্য আবেদনকারীদের একাংশের নাকি দাবি, পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শূন্যপদ বিক্রি হচ্ছে। তাই টাকার বিনিময় সেই দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করতে হবে বলেই দাবি করেছেন জগন্নাথ সরকার।
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাংসদ বলেন, রেশন ডিলার হিসেবে তৃণমূলের লোকেদের বসানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। দেখা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দা নয়, এমন ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যে তথ্য পরিবেশিত হচ্ছে তা অসত্য। অথচ সেই এলাকার আবেদনকারীরা ডিলারশিপ পাচ্ছেন না। যাঁরা যোগ্য তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অনিয়মের একগুচ্ছ উদাহরণ তাঁর কাছে রয়েছে বলে সাংসদ দাবি করলেও, জেলাশাসককে দেওয়া চিঠিতে তেমন কিছুরই উল্লেখ নেই। বিষয়টি নিয়ে নদীয়া জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ মল্লিকা চট্টোপাধ্যায় বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ করছেন বিজেপির সাংসদ। সমস্ত কিছু নিয়ম মেনেই হচ্ছে। কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ একত্রিত করছেন জগন্নাথবাবু। তবে বিষয়টি নিয়ে নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, সাংসদের চিঠি আমি এখনও হাতে পাইনি। যদি সেরকম কিছু হয়, তাহলে আমি অবশ্যই তদন্ত করে দেখব।