Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘লাফাচ্ছে সব চুনোপুটি, একাই একশো হাওয়াই চটি,’ স্লোগান-তরজায় জমজমাট প্রচার তৃণমূলের

ভোটের আর বাকি দু’দিন। ফলে শেষ মুহূর্তে কলকাতার শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজার সমর্থনে জমে উঠেছে ভোটের প্রচার।

‘লাফাচ্ছে সব চুনোপুটি, একাই একশো হাওয়াই  চটি,’ স্লোগান-তরজায় জমজমাট প্রচার তৃণমূলের
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

সুকান্ত বসু, শ্যামপুকুর: ভোটের আর বাকি দু’দিন। ফলে শেষ মুহূর্তে কলকাতার শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী শশী পাঁজার সমর্থনে জমে উঠেছে ভোটের প্রচার। এই কেন্দ্রের অলিগলিতে তৃণমূলের মিছিলে আওয়াজ উঠল— ‘জয় বাংলা/পারলে সামলা।’ কোথাও কোথাও আবার তৃণমূল কর্মীদের বলতে শোনা যায়— ‘ধর্ম যার যার/বিজেপি হারলে আনন্দ সবার।’ রবীন্দ্র সরণি দিয়ে যাওয়া মিছিলে  শতকণ্ঠে স্লোগান— ‘লাফাচ্ছে সব চুনোপুটি/একাই একশো হাওয়াই চটি।’ উত্তর কলকাতার এই অংশে তৃণমূলের বিভিন্ন মিছিল থেকে এমনই সব স্লোগান ভেসে এল।

Advertisement

শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ নয় ভোট-প্রচার। সঙ্গে আছে দেওয়াল লিখনও। এই কেন্দ্রের অধীনেই রয়েছে শ্যামপুকুর, কুমোরটুলি, বাগবাজার, শোভাবাজার, শ্যামবাজার, রবীন্দ্র সরণি, গিরিশ অ্যাভিনিউ, মদনমোহনতলা স্ট্রিট ইত্যাদি। সর্বত্রই বিভিন্ন দেওয়ালে ফুটে উঠেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, ঘাসফুলের ছবি, সঙ্গে তৃণমূলের নানা ভোট করচা। কোথাও লেখা— ‘যতই নাড়ো কলকাঠি/নবান্নে আবার হাওয়াই চটি।’ কোথাও আবার লেখা লেখা— ‘বাংলার মায়েরা ফিরে পেল প্রাণ, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের অর্থ ও সম্মান।’ কিংবা ‘ জয় শ্রীরাম/হাজার টাকা গ্যাসের দাম।’ প্রার্থী শশী পাঁজা বলেন, ‘গোটা বিধানসভা কেন্দ্র চষে ফেলেছি। মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। গত পাঁচ বছরে মানুষকে আন্তরিকভাবে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথীর মতো বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প কীভাবে সাধারণ মানুষের উপকারে এসেছে, সে কথাও প্রচারে তুলে ধরেছি। তাই কাজের নিরিখে সাধারণ মানুষের সমর্থন ও আশীর্বাদ পাব বলেই আমার স্থির বিশ্বাস।’
ভরদুপুরে কথা হচ্ছিল এই বিধানসভা কেন্দ্রের বৃন্দাবন বসাক স্ট্রিটের বাসিন্দা শুভাশিস শেঠের সঙ্গে। বিভিন্ন পরিষেবা প্রসঙ্গে বছর ওই যুবক বললেন, ‘আমাদের এলাকায় প্রতিটি বাড়িতেই পানীয় জলের কল, আলো রয়েছে। কোনো সমস্যায় পড়লে বিধায়িকার অফিসে গেলে সহযোগিতা পেয়েছি।’ বাগবাজার বোসপাড়া লেনের বাসিন্দা সুজিত নন্দীর কথায়, ‘বাগবাজারকে ঘিরে রয়েছে নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পীঠস্থান। আছে বাজার, গঙ্গার ঘাট। সর্বত্রই প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে।’ রাজা নবকৃষ্ণ স্ট্রিটের লালবাগানের বাসিন্দা সনু সিং বলেন, ‘পরিষেবা তো মিলছে, সঙ্গে এলাকার পার্কগুলিও সংস্কার করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। এই ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকেন্দ্রও এখন অনেক উন্নত হয়েছে।’ যদিও এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীর দাবি, ‘গত পাঁচ বছরে এখানে ছিটেফোঁটা উন্নয়ন হয়নি। প্রতিটি ওয়ার্ডেই রয়েছে হাজারো সমস্যা। প্রচারে তা তুলে ধরেছি।’ বামফ্রন্টের শরিক ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী ঝুমা দাস বলেন, ‘মানুষের দরজায় দরজায় যাচ্ছি। তাঁদের অভাব‑অভিযোগের কথা মন দিয়ে শুনছি। সমর্থনও পাচ্ছি’।

সম্পর্কিত সংবাদ