


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আবার সেই কর্ণাটক! তার উপর আবার বিহার-ঝাড়খণ্ড অঞ্চলের যোগসূত্র। শতাব্দীর শুরুতেই কর্ণাটকের ভাটকল ব্রাদার্সের (রিয়াজ ভাটকল এবং ইকবাল ভাটকল) হাত ধরে ভারতে উত্থান হয়েছিল নতুন এক জঙ্গি সংগঠনের। ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন। সেই সংগঠন এখন অতীত। এক যুগ পর কর্ণাটক থেকে উঠে এল ফের জঙ্গি মডিউলের আশঙ্কা। এবার আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, আল কায়েদার সঙ্গে যোগসূত্র। সেই সন্দেহেই মঙ্গলবার কর্ণাটকের হেব্বালের মানোরায়ানাপালিয়া থেকে ৩০ বছর বয়সি এক যুবতীকে গ্রেপ্তার করেছে গুজরাত পুলিসের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস)। যুবতীর নাম শামা পারভিন। প্রাথমিক তদন্তে গুজরাত পুলিসের দাবি, জঙ্গি সংগঠন একিউআইএসের স্লিপার সেলের অন্যতম প্রধান এই যুবতী। কিন্তু একিউআইএস কী? পুরো কথাটি হল আল কায়েদা ইন ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সিই প্রথম এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার সময় এই কোডনেম ব্যবহার করেছিল।
ধৃত যুবতীর কাছে কিছু নথি পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি খতিয়ে দেখে পুলিসের সন্দেহ, অসমের উলফার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে সে। মায়ানমারে রয়েছে উলফার বর্তমান মডিউলের একাংশ। নিজের ভাইয়ের সঙ্গে হেব্বালের একটি পাড়ায় থাকত শামা। ভাই তথ্য-প্রযুক্তি কর্মী। যুবতীর বাড়ি ঝাড়খণ্ড। ঘটনাচক্রে ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের প্রধান কমান্ডার ইয়াসিন ভাটকল নিজে সর্বাগ্রে যে শক্তিশালী মডিউল তৈরি করেছিল, সেটি বিহারের দ্বারভাঙ্গা, মধুবনী এবং ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে। পুনে, বেঙ্গালুরু, মুম্বই, দিল্লি, বারাণসী, হায়দরাবাদে একের পর এক বিস্ফোরণে যুক্ত ছিল ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন। ২০১৩ সালে রক্সৌল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ইয়াসিনকে। তারপর কেটে গিয়েছে ১২ বছর। ফাঁসির অপেক্ষায় সে এখন তিহার জেলে। বাটলা হাউস এনকাউন্টারের সময় দিল্লি এবং নয়ডায় ইয়াসিনের বেশ কিছু স্লিপার সেল ও এজেন্টের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। ঠিক সেরকমই এবার দিল্লি, নয়ডা থেকেও কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করেছে গুজরাত পুলিস। তাদের জেরা করেই সন্ধান পাওয়া যায় শামার। সোশ্যাল মিডিয়া এবং অ্যাপের মাধ্যমে সে যুবসমাজের মগজধোলাই করত। জঙ্গি মডিউলে যোগ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংকেতমূলক বার্তা পাঠাত বলেই পুলিসের দাবি।
ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে ধরা পড়া ইয়াসিনকে ঝাড়খণ্ড ও দ্বারভাঙ্গায় নিয়ে গিয়েছিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি। ঠিক তেমনই বেঙ্গালুরুর আদালতের অনুমতিক্রমে শামাকে আপাতত গুজরাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর তাকে ঝাড়খণ্ডে যাবে এটিএস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানতে পেরেছে, আল কায়েদার মডিউল ভারতের মেট্রো শহরগুলির জনবহুল স্থানে বিস্ফোরণ অথবা গণহত্যার মতো বড়সড় সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করেছে। এটা ইন্ডিয়ান মুজাহিদিনের পরিচিত মোডাস অপারেন্ডি। অপারেশন সিন্দুরের পর হঠাৎ লস্কর এবং জয়েশের কিছু প্রক্সি সংগঠন সক্রিয় হয়ে ওঠার সংকেত দিচ্ছে। আর শামার গ্রেপ্তারির পর যে চক্রান্তগুলির সম্ভাবনা সামনে আসছে, সেগুলি থেকে একটাই শঙ্কা প্রবল—গোপনে ‘ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন টু’ তৈরি হচ্ছে না তো আবার? এপিসেন্টার সেই কর্ণাটক?