


নয়াদিল্লি: পূর্ণ কুম্ভে উত্তরপ্রদেশ সরকারের গাফিলতি। গত ২৯ জানুয়ারি মৌনি অমাবস্যার দিন পদপিষ্টের ঘটনা প্রাণ কেড়েছিল বহু পুণ্যার্থীর। তারপর কেটে গিয়েছে চার মাসের বেশি। কিন্তু সেদিন কতজনের মৃত্যু হয়েছিল? ঠিক কতগুলি পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে? যোগী সরকার তথা বিজেপির জমকালো প্রচারের আড়ালে এখনও রহস্যে মোড়া এই সব প্রশ্নের উত্তর। শুরু থেকেই প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে সরব বিরোধীরা। স্বয়ং যোগী আদিত্যনাথ বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, মৃতের সংখ্যা ৩৭। যদিও বিবিসি হিন্দির একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, গত ২৯ জানুয়ারি পদপিষ্টের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল কমপক্ষে ৮২ জনের! তাদের অনেকের পরিবারকে নগদে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আবার কোনও কোনও পরিবার কিছুই পায়নি। এব্যাপারে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য ১১টি রাজ্যের ৫০টিরও বেশি জেলায় ঘুরে অনুসন্ধান চালিয়েছে বিবিসি। এই রিপোর্ট সামনে আসতেই তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে যোগী সরকারকে কাঠগড়ায় তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব।
দুর্ঘটনার শুরু থেকেই সরকারি স্তরে মুখে কুলুপ আঁটা হয়েছিল। ‘পদপিষ্টের মতো পরিস্থিতি’র কথা বলে নজর ঘোরানোর চেষ্টারও অভিযোগ উঠে। অবশেষে রাতের দিকে যোগী প্রশাসন জানায় পদপিষ্ট হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনের ব্যর্থতা ঢাকতে মৃতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এই ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত একটি মামলায় সম্প্রতি এলাহাবাদ হাইকোর্ট মৃতের মোট সংখ্যা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে যোগী সরকারকে। সেইসঙ্গে কতজনের পরিবার ক্ষতিপূরণের আবেদন জানিয়েছে, আহত বা জখমদের কী চিকিৎসা হয়েছে, কতজন আর্থিক সাহায্য পেয়েছে— সব তথ্য হলফনামা আকারে জমা দিতে বলেছে।
এরইমধ্যে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৬ জন মৃতের পরিবারকে চেক মারফত ২৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। ২৬টি পরিবার নগদে পাঁচ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। কিন্তু পদপিষ্টে মৃতদের সরকারি তালিকায় ওই পরিবারগুলির কারও নাম নেই। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ পুলিস এই অর্থ হস্তান্তর করেছে। অন্যদিকে, ১৯টি পরিবার কোনও ক্ষতিপূরণই পায়নি।
এই প্রতিবেদন সামনে আসার পরই উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে নিশানা করেছে বিরোধীরা। সমাজবাদী পার্টি নেতা অখিলেশ যাদব বলেছেন, যারা মিথ্যা পরিসংখ্যান দেয়, তারা মানুষের আস্থার যোগ্য নয়।
একইসঙ্গে নগদে ক্ষতিপূরণ দেওয়া নিয়েও যোগী সরকাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। এই অর্থের উৎস কোথায়, কোন নিয়মে নগদ বণ্টনে অনুমতি দেওয়া হল, এমন প্রশ্নও তুলেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ।