


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারের পরিচালনাধীন কল্যাণী এইমস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সমীক্ষার নামে পরোক্ষভাবে এনআরসির কাজ করছে! সোমবার এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এদিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে এই ধরনের সমীক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আবেদন করেছেন। তিনি এদিন বলেন, ‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন এজেন্সিকে দিয়ে সমীক্ষা করানো হচ্ছে। এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে।’ রাজ্য সরকারের পাঠানো লোক ছাড়া অন্য কারও সমীক্ষায় সাধারণ মানুষ যেন কোনও তথ্য না দেন, সেই পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, এভাবে ঘুরপথে এনআরসি সংক্রান্ত কাজ হচ্ছে কি না, তার উপর নজরদারি চালাতে মুখ্যমন্ত্রী এদিন তিন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তাঁরা হলেন অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম ও প্রদীপ মজুমদার।
স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এইমসের তরফে জানানো হয়েছে, তারা জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষার আওতায় রাজ্যের সাতটি জেলায় কাজ করছে। বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড নিউরো সায়েন্সেসের তত্ত্বাবধানে গোটা দেশে এখন দ্বিতীয় পর্যায়ের সমীক্ষা চলছে। ওই সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে সমীক্ষার প্রশ্নগুলি নির্ধারণ করেছে। রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই এই কাজ চলছে বলে দাবি এইমস কর্তৃপক্ষের। মুখ্যমন্ত্রী এদিন খেদের সঙ্গে জানিয়েছেন, এইমস গড়ার জন্য রাজ্য সরকার জমি দিয়েছে। তাদের নানাভাবে সাহায্য করা হয়েছে। আগামী দিনেও করা হবে। কিন্তু এইমস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁদের ডাকে না!