


সংবাদদাতা, বোলপুর: পাঁচবছর পর অবশেষে সাধারণের জন্য খুলতে চলেছে বিশ্বভারতীর দ্বার। ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই ইউনেস্কোর লিভিং হেরিটেজ সাইট শান্তিনিকেতনকে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দিলেন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। ‘শান্তিনিকেতন, ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট: ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের উদ্ভাবন এবং পর্যটন’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পর একথা ঘোষণা করেন তিনি। বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় মানুষ ও পর্যটকদের মধ্যে খুশির হওয়া বইছে। কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে দেবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
করোনার জন্য ২০২০ সালে বসন্ত উৎসব বাতিল হয়। দু’বছর পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও অন্যদের জন্য বিশ্বভারতী ক্যাম্পাস অধরাই ছিল। এই নিয়ে সংবাদপত্রে বিস্তর লেখালেখি হলেও কর্তৃপক্ষের টনক নড়েনি। অবশেষে, সেই নিষেধাজ্ঞা উঠল। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য পর্যটনের স্বার্থে দ্রুত ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশ্বভারতী পরিবারের সদস্যরা। প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরাও তাঁর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড রিসার্চের উদ্যোগে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট শান্তিনিকেতনকে নিয়ে শুক্রবার থেকে দু’দিনের একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। উপাচার্য ছাড়াও সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতাস্থিত জাপানের অ্যাক্টিং কনসাল জেনারেল আশিদা কাটসুনরি, কানাডার থম্পসন রিভার্স ইউনিভার্সিটির কলা বিভাগের ডিন রিচার্ড ম্যাক ক্যচেন, কলকাতার ইউনিভার্সিটি অফ ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্টের উপাচার্য সজল দাশগুপ্ত এবং অন্য কিছু গুণীজন। সেখানে আগত অতিথিদের সামনে হেরিটেজ সংক্রান্ত বিভিন্ন রূপরেখা তুলে ধরা হয়। এরপরই সাংবাদিকদের উপাচার্য বলেন, অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না। রবীন্দ্রনাথের মতাদর্শ মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সর্বসাধারণের জন্য খুব তাড়াতাড়ি খোলার অনুমোদন দিয়েছি। পর্যটনের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রয়েছে হেরিটেজ রক্ষণাবেক্ষণের বিভিন্ন পরিকল্পনা। এসব বাস্তবায়িত করতে নিরাপত্তার দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য জেলা প্রশাসনের সঙ্গেও আলোচনায় বসব। নিজস্ব চিত্র