


বোকারো: কলেজে ভরতির জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন ১৮ বছরের এক তরুণী। আর বাড়ি ফেরেননি। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন মা। তারপর কেটে গিয়েছে আটমাস। অবশেষে ঝোপের মধ্যে থেকে উদ্ধার হল ওই তরুণীর কঙ্কাল! তাঁকে খুন করে সেখানে ফেলে দিয়েছিল প্রেমিক। ইতিমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সাসপেন্ড করা থানার ওসি সহ ২৮ পুলিশকর্মীকে। তাঁদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি, ঘুষ নেওয়া, অভিযুক্তের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রমাণ নষ্টের মতো অভিযোগ রয়েছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের বোকারোতে।
পুলিশ সুপার হরবিন্দর সিং জানিয়েছেন, পিন্দ্রাজোড়া থানা এলাকার ছাস কলেজের কাছ থেকে তরুণীর কঙ্কাল, চুল, পোশাকের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর অপহরণ ও খুনের মামলার তদন্তে অনিয়মের জন্য ২৮ জন পুলিশ আধিকারিক-কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তালিকায় নাম রয়েছে পিন্দ্রাজোড়া থানার ওসি-র। পুলিশ সুপারের বক্তব্য, অভিযুক্তের সঙ্গে যোগসাজশ ছিল ওই পুলিশকর্মীদের। অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁদের আর্থিক লেনদেনও হয়েছে। পুলিশকর্মীদের একাংশের এহেন কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু, কীভাবে গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে এল? পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, মৃতার ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেরায় জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তের প্রায় তিন বছর সম্পর্ক ছিল। বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন ওই তরুণী। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বচসাও হয়। এর পরেই তরুণীকে খুনের পরিকল্পনা করে যুবক। গত বছর ২১ জুলাই ছাস কলেজে ভরতির জন্য গিয়েছিলেন তরুণী। সেখানেই তাঁর সঙ্গে প্রেমিকের দেখা হয়। এরপরই কলেজ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তরুণীকে খুন করে অভিযুক্ত। জঙ্গলের মধ্যে দেহ ও খুনে ব্যবহৃত ছুরি লুকিয়ে সেখান থেকে চম্পট দেয় সে। জেরায় তরুণীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ধৃত। তার বয়ানের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে কঙ্কাল উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টেরও দ্বারস্থ হয়েছিলেন মৃতার মা। সেখানে কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়ে প্রশাসন।