Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রশাসনিক ব্যর্থতায় নাবালিকা বিয়ে ও অন্তঃসত্ত্বার সংখ্যা বাড়ছে রানাঘাটে

প্রশাসনিক ব্যর্থতায় নাবালিকা বিয়ে ও অন্তঃসত্ত্বার সংখ্যা বাড়ছে রানাঘাটে
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: একটি, দু’টি নয়, প্রায় একশোর কাছাকাছি কর্মীপদ শূন্য। আইসিডিএস কর্মীর অভাবেই কী প্রভাব পড়ছে নাবালিকা বিয়ের প্রবণতায়? ধানতলা থানায় নাবালিকা বিয়ের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই উঠছে এই প্রশ্ন। উত্তর খুঁজতে গিয়ে শিশু বিকাশ দপ্তরের কর্মী সঙ্কটের দিকটিই ফুটে উঠেছে। প্রশাসনিক ব্যর্থতায় মা হচ্ছেন নাবালিকারা। গত সোমবার রানাঘাট পুলিস জেলার ধানতলা থানার গ্যাস গোডাউন পাড়ার একটি মন্দিরে নাবালিকার বিয়ে হয়। পুলিস বর ও কনে পক্ষকে থানায় নিয়ে গেলেও স্রেফ মুচলেকা নিয়েই ছেড়ে দেয়। এতে পুলিস ও ব্লকের শিশু বিকাশ বিভাগের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

Advertisement

এলাকার মন্দিরে নাবালিকা বিয়ের আয়োজন হচ্ছে অথচ খবর পেলেন না সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিক। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের নথিই বলছে জেলায় নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সংখ্যা উদ্বেগজনক। এর মধ্যে কেবল রানাঘাট-২ ব্লকে শেষ ১০ মাসে ১৯ বছরের কম বয়সি মায়ের সংখ্যা ৩২৮। অর্থাৎ দেড় অথবা দুই বছরের মধ্যে তাদের বিয়ে হয়েছে। অর্থাৎ ওই নাবালিকাদের বিয়ে হলেও কেউ খবর পায়নি। 
শিশু বিকাশ দপ্তর সূত্রের খবর, নাবালিকা বিয়ের খবর সাধারণত আইসিডিএস কর্মীদের উদ্যোগেই পাওয়া যায়। কিন্তু ব্লকগুলিতে প্রায় একশোর কাছাকাছি আইসিডিএস কর্মীপদ খালি পড়ে রয়েছে। রানাঘাট-২ ব্লকে ৬০০ আইসিডিএস কর্মী থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন ৫০০ জনের মতো। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের অনেককেই দুই অথবা তার চেয়েও বেশি সেন্টারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। এমতাবস্থায় এলাকায় নাবালিকা বিবাহের খবর রাখা তাঁদের পক্ষেও সম্ভব নয়। 
রানাঘাট-২ ব্লকের শিশু বিকাশ বিভাগের কর্তা কিরণচন্দ্র ঢাকাই কর্মী সঙ্কটের বিষয়টি স্বীকারও করে নিয়েছেন । তিনি বলেন, ওই এলাকায় নাবালিকা বিয়ে হচ্ছে তার খবর আমার কাছে আসেনি। কর্মী সঙ্কটের কারণে সমস্ত খবর ঠিকঠাক এসে পৌঁছয় না। আমরা সচেতনতা প্রচার করি ঠিকই। কিন্তু, লোকবলের অভাব আমাদের ভোগায় এটা অস্বীকার করার জায়গা নেই।  শনিবার বরের বাড়ির এলাকায় গিয়ে দেখা গিয়েছে বিয়ের মন্দির আর বাড়ির মধ্যে দূরত্ব মাত্র কয়েক গজ। বাড়ির উঠোনে বসে বর বলেন, আমাদের দু’জনের মধ্যে প্রেম ছিল। তাই আমি বিয়ে করার জন্য বাড়ির লোককে বলেছিলাম। তবে নাবালিকা বিয়ের ব্যাপারটা জানতাম না। বরের পরিবারের অবশ্য দাবি, বিয়ের পর পুলিসের নিষেধে ওই নাবালিকা কনেকে তার বাড়িতেই রেখে আসা হয়েছে।  
ওই এলাকাতেই স্থানীয় কামালপুর পঞ্চায়েতের বিজেপি প্রধান বুলু অধিকারীরও বাড়ি। তাঁর দাবি, ঘটনার দিন তিনি সারা সন্ধ্যে বাড়িতেই ছিলেন। অথচ বাড়ির পাশে মন্দিরে নাবালিকার বিয়ে হচ্ছে তা তিনি জানতেন না। তিনি বলেন, পরের দিন সকালে সবটা জানতে পেরেছি। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পঞ্চায়েত প্রধান, পুলিস ও শিশু বিকাশ বিভাগের দায় এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাতেই কি নাবালিকা বিয়ের সংখ্যা বাড়ছে? নাবালিকা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সংখ্যা দেখাচ্ছে সমাজে সচেতনতার রুগ্ন ছবিটাকেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ