নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিন্দুরে’র সাফল্য তুলে সন্ত্রাসবাদ বিরোধিতায় ভারতের অবস্থানের প্রচারে সাংসদদের বিদেশে পাঠিয়েছিল মোদি সরকার। সাতটি সর্বদলীয় প্রতিনিধিদলে ৫৯ জন সাংসদ গিয়েছিলেন ৩২টি দেশ। বিদেশি রাষ্ট্রকে পাশে টানার চেষ্টায় ত্রুটি রাখছে না ভারত। এবার মৈত্রী তৈরিতে উদ্যোগ নিচ্ছে লোকসভা সচিবালয়। এবার সরকার নয়, উদ্যোগ নিয়েছেন খোদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। বিশ্বের ৬৪টি দেশে (লোকসভা-রাজ্যসভা মিলিয়ে) মোট ৭০৩ জন সাংসদকে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন।
যদিও সেই তালিকায় প্রতিবেশী বাংলাদেশের নাম নেই। অথচ কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হয়ে ওম বিড়লা বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। বৈঠকও করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রী বাড়াতে আগ্রহ নেই ? নাকি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে লুকিয়ে রাখার জন্য বাংলাদেশের কাছে অস্বস্তি এড়াতে চাইছে? নেই পাকিস্তানও।
ভারত বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ। সেই বার্তা বিদেশের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় সাংসদদের সঙ্গে বিভিন্ন মহাদেশের আইনসভার মতামতের আদান প্রদান হবে। এর মাধ্যমে কূটনৈতিক প্রভাব বাড়াতেই এই উদ্যোগ বলেই লোকসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তাই স্পিকার গড়েছেন সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ। ৬৪ টি গ্রুপে বিজেপি-এনডিএ’র সাংসদ যাবেন ৩৪৮ জন। আর তৃণমূল, কংগ্রেস, সপা সহ বিরোধীরা ৩৫৫ জন।
তৃণমূলের মোট ৩৯ জন সাংসদকে এই উদ্যোগে শামিল করতে তালিকায় যুক্ত করেছেন স্পিকার। শুধু তাই নয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আলজেরিয়া, কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে বুলগেরিয়া এবং ডেরেক ও’ব্রায়েনকে চিলি ভ্রমণ গ্রুপের নেতৃত্বের দায়িত্বে রাখা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নাম জাপান যাত্রায় থাকলেও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে কোনো টিমেই রাখা হয়নি। আচমকা আমেরিকা, জাপান, শ্রীলঙ্কা, জার্মানি, সুইৎজারল্যান্ডের মতো ৬৪ দেশ ভ্রমণে সাংসদদের পাঠানোর পিছনে কি স্রেফ মৈত্রীই লক্ষ্য, নাকি স্পিকার ওম বিড়লা চাইছেন বিরোধীদের মন গলাতে? পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে তাঁকে যে পদচ্যূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিরোধীরা!