


মিরাট: ‘আধার কার্ড কোথায়!’ নীল রঙের ড্রাম কিনতে গিয়ে মহাফাঁপড়ে পড়লেন মিরাটের বাসিন্দা রাহুল। দোকানদার তাঁর থেকে আধার কার্ড চাইছেন। বলছেন, ‘পরিচয়পত্র না দেখালে নীল ড্রাম বিক্রি করা হচ্ছে না।’ রাহুলের মাথায় হাত। মিরাটে নাকি এমনই ফতোয়া জারি করেছেন নীল ড্রামের ব্যবসায়ীরা। কেন এমন আজব নিয়ম? জানা গেল, অবসরপ্রাপ্ত মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে খুনের পর দেহ টুকরো করে নীল রঙের ড্রামে ভরা হয়েছিল। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে অভিযোগের আঙুল উঠেছে সৌরভের স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মানুষের মনে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। নীল ড্রাম দেখলেই লোকজন ভাবছেন, তার মধ্যে হয়তো রয়েছে দেহাংশ। তাই নিরাপত্তার কারণে নীল রঙের ড্রাম বিক্রির আগে আধার কার্ড দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কী কাজে সেই ড্রাম ব্যবহার হবে, সেই প্রশ্নও করছেন তাঁরা।
বছরের পর বছর পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে ড্রামগুলি। তবে মিরাটকাণ্ডের জেরে এই ড্রামই আতঙ্কের কেন্দ্রবিন্দু। ব্যবসাতেও এর প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘নীল ড্রাম মানুষ কিনতেও ভয় পাচ্ছেন। আমাদের কী দোষ?’ পরিস্থিতি সামাল দিতে নীল রঙের পরিবর্তে সাদা রঙের ড্রাম বিক্রি করতে হচ্ছে। টেকচাঁদ নামের একজন ড্রাম বিক্রেতা বলেন, ‘আমার দোকানে অনেকগুলি নীল ড্রাম ছিল। সেগুলি দেখে ক্রেতারা সন্দেহের চোখে দেখেন। তাই বাধ্য হয়ে ড্রামগুলিকে সাদা রং করিয়ে নিয়েছি।’
ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের বারবার আর্জি জানিয়েছেন, সৌরভ হত্যার সঙ্গে নীল ড্রামের কোনও সম্পর্ক নেই। আর অভিযুক্তরা জেলে রয়েছেন। তাই অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কোনও অর্থ নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নীল ড্রাম সংক্রান্ত মিম ও ভিডিও দেখে মানুষের মনে ভয়ের উদ্রেক হয়েছে। সদ্য উত্তরপ্রদেশের গোন্ডাতেই এক মহিলা তাঁর স্বামীকে হুমকি দিয়েছেন, দেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে দেওয়ার। এর জেরে নীল ড্রাম ব্যবসারই চরম ক্ষতি হচ্ছে বলে জানাচ্ছে ব্যবসায়ী সংগঠন।