নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে চারটি স্থায়ী সমিতিতে এক বছরের জন্য বাজেট বরাদ্দ হয়েছে ১০লক্ষ টাকা করে। অথচ, স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষের জন্যই প্রতি বছর খরচ হয় ৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। জেলা পরিষদে চারটি স্থায়ী সমিতির মোট বাজেট ৪০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ওই চার স্থায়ী সমিতির বার্ষিক বাজেটের সিংহভাগ অর্থ কর্মাধ্যক্ষদের জ্বালানি তেল, গাড়ির বিল এবং সাম্মানিক বাবদ খরচ হবে। এই ইস্যুতে জেলা পরিষদে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিজেপির দাবি, গ্রামীণ এলাকায় উন্নয়ন নিয়ে উদাসীন জেলা পরিষদ। ২০২৫-’২৬আর্থিক বছরের বাজেটই তার প্রমাণ। তৃণমূলের পাল্টা জবাব, গ্রামীণ উন্নয়নে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার জেরেই এমনটা হয়েছে।
২০২৫-’২৬ আর্থিক বছরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদে খাদ্য ও সরবরাহ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ক্ষুদ্রশিল্প ও বিদ্যুৎ এবং শিশু ও নারী উন্নয়ন স্থায়ী সমিতিতে বাজেট ১০লক্ষ টাকা করে ধরা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় জেলা পরিষদের মাধ্যমে কাজকর্ম করার জন্য প্রত্যেক আর্থিক বছরের শুরুতেই বাজেট পাশ করা হয়। সেই বাজেট অনুযায়ী সারা বছর কাজকর্ম হয়। গত ৩মার্চ জেলা পরিষদে ২০২৫-’২৬আর্থিক বছরের খসড়া বাজেট পেশ হয়েছে। ২২৪কোটি টাকা বাজেটের মধ্যে চারটি স্থায়ী সমিতিতে মাত্র ১০লক্ষ টাকা করে বাজেট ধরা হয়েছে।
জেলা পরিষদের প্রতিটি স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষের জন্য বছরে ৬লক্ষ ৭০হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি মাসে তাঁদের জন্য ২০০লিটার জ্বালানি তেল ধার্য। এজন্য প্রতি মাসে খরচ হয় ২০হাজার টাকা। বছরে ২লক্ষ ৪০হাজার টাকা ব্যয় হয়। এছাড়াও নিজেদের ব্যবহৃত গাড়ির ভাড়া বাবদ ২৫থেকে ৩০হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। তাতে বছরে ৩লক্ষ থেকে ৩লক্ষ ৬০হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এছাড়াও প্রতি মাসে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষরা সাত হাজার টাকা সাম্মানিক পান। বছরে তাঁদের অ্যাকাউন্টে মোট ৮৪হাজার টাকা জমা পড়ে। এভাবেই তাঁদের জন্য প্রতি বছর ৬লক্ষ ৭০হাজার টাকা খরচ হয়। এর বাইরে, ক্যান্টিন খরচ সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়। অথচ, চার গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী সমিতির বাজেট মাত্র ১০লক্ষ টাকা করে।
মোট ছ’টি স্থায়ী সমিতিতে বরাদ্দ অর্থ বেশ কম। কৃষি সেচ সমবায় স্থায়ী সমিতি এবং বন ও ভূমি স্থায়ী সমিতির বার্ষিক বাজেট ২০লক্ষ টাকা করে। ৭০আসন বিশিষ্ট পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের আয়তন অনেক বড়। গ্রামীণ এলাকায় জেলা পরিষদের মাধ্যমে কাজের সুযোগ অনেক বেশি। কিন্তু, বাজেটে বরাদ্দ ঘিরে রাজনৈতিক কাজিয়া চলছে।
জেলা পরিষদের বিরোধী দলনেতা বামদেব গুছাইত বলেন, সিংহভাগ স্থায়ী সমিতির বাজেটে বরাদ্দ অর্থ কম। ৩মার্চ জেলা পরিষদের সাধারণ সভার বৈঠকে আমরা এনিয়ে সরব হই। এক একটি স্থায়ী সমিতির বাজেটে বরাদ্দ অর্থের একচেটিয়া অংশ সংশ্লিষ্ট স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষদের সুযোগ-সুবিধা দিতে খরচ হবে। এটা ভীষণ লজ্জার।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি উত্তম বারিক বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে রাজ্যের সঙ্গে আর্থিক বঞ্চনা করে চলছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং খাদ্যে কেন্দ্রের আর্থিক সহায়তা আসে। বিগত কয়েক বছর সেই খাতেও বঞ্চনার শিকার রাজ্য। একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। বিজেপির নির্বাচিত সদস্যরা কেন্দ্রের কাছ থেকে প্রাপ্য টাকা আনার দাবিতে আমাদের লড়াইয়ের শরিক হলে জেলায় উন্নয়নে আরও গতি আসবে।