নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কোথাও দু’জন, কোনও স্কুল থেকে আবার তিনজনও রয়েছে। এইভাবে এবারের মাধ্যমিকে রাজ্যের বিভিন্ন রামকৃষ্ণ মিশন থেকে সর্বমোট আটজন পরীক্ষার্থী মধ্যশিক্ষা পর্ষদের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। তবে কয়েকজন পরীক্ষার্থীর র্যাঙ্ক হাতছাড়া হয়েছে খুব অল্পের জন্য!
গতবার ন’জন মেধা তালিকায় জায়গা করে নিলেও এবারে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয় থেকে মাত্র দু’জন র্যাঙ্ক পেয়েছে। ১৯৮২ সালের পর এই প্রথম হিন্দিভাষী এক ছাত্র মিশন থেকে মেধা তালিকায় স্থান পেল। অষ্টম স্থানাধিকারী পুষ্পক রত্নম ৬৮৮ নম্বর পেয়েছে। সে বিহারের নালন্দার বাসিন্দা। অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের বাসিন্দা সোমতীর্থ করণ পঞ্চম হয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯১। দুই ছাত্রই ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় বলে জানিয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বামী ইশতেশানন্দ বলেন, ‘বাংলা এবং ইতিহাসের নম্বর খারাপ হওয়ায় বেশ কয়েকজন র্যাঙ্ক মিস করেছে। এবারে এই স্কুল থেকে মোট ১২৩ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে ১২০ জন।’
এদিকে, মালদহের ইংলিশবাজারের রামকৃষ্ণ মিশন বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের তিনজন ছাত্র এবার মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। অনুভব বিশ্বাস (৬৯৪) রাজ্যে দ্বিতীয় হয়েছে। অরিত্র সাহা এবং সৃজন প্রামাণিক ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে যুগ্মভাবে অষ্টম স্থান দখল করেছে।
পাশাপাশি এবার বসিরহাটের টাকি রামকৃষ্ণ মিশন থেকে অঙ্কন মণ্ডল যুগ্মভাবে ষষ্ঠ হয়েছে। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯০। এবার এই স্কুল থেকে ৮৭ জনের মধ্যে ৮৫ জন প্রথম ডিভিশনে পাশ করেছে। কামারপুকুর রামকৃষ্ণ মিশন বহুমুখী বিদ্যালয় থেকে এবার দু’জন ছাত্র রাজ্যের মেধা তালিকায় স্থান দখল করেছে। তার মধ্যে ৬৯১ সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রাজ্যে পঞ্চম হয়েছে চৌধুরী মহম্মদ আসিফ। অয়ন নাগ ৬৮৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে নবম স্থান দখল করেছে।
তবে অল্পের জন্য র্যাঙ্ক হাতছাড়া হয়েছে বেশ কয়েকটি রামকৃষ্ণ মিশনের পড়ুয়ার। যেমন বাঁকুড়ার রামহরিপুর রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যালয়ের সায়ন্তন কিস্কু। ৬৮৪ পেয়ে স্কুলে প্রথম হলেও ২ নম্বরের জন্য তার র্যাঙ্ক হাতছাড়া হয়েছে। এই স্কুল থেকে মোট ১৩৯ জন পরীক্ষা দিয়েছিল। প্রথম বিভাগে পাশ করেছে ১৩১ জন। পুরুলিয়ার রামকৃষ্ণ মিশনে অভিনব মিত্র পেয়েছে ৬৮৪। এই স্কুলে এবার ৯২ জনের মধ্যে সবাই ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুলের ছাত্র অভ্র রায় মাত্র ২ নম্বরের জন্য প্রথম দশে থাকতে পারেনি। তার প্রাপ্য নম্বর ৬৮৪। এবার এই স্কুলের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল ৯২ জন। তাদের মধ্যে ৯১ জন ৬০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে। রহড়া রামকৃষ্ণ মিশন বয়েজ হোম হাইস্কুল থেকে এবার মোট ১৯৩ জন পরীক্ষায় বসেছিল। প্রথম ডিভিশনে পাশ করেছে ১৮৯ জন। সর্বোচ্চ ৬৭০ নম্বর পেয়েছে সাগ্নিক মণ্ডল।
মাধ্যমিকে মুর্শিদাবাদ জেলার মেধা তালিকায় জায়গা পেল না সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন। মিশনের আবাসিক পড়ুয়া রূপম মণ্ডল সর্বোচ্চ ৬৭০ নম্বর পেয়েছে। তবে মিশনের মোট পরীক্ষার্থী ৯৫ জন সকলেই পাশ করেছে। ১৮ জন পড়ুয়া ৯০ শতাংশ এবং ৮০ শতাংশ নম্বর পেয়েছে ৬০ জন পড়ুয়া। ৬০০ পেয়েছে ৩৬ জন। প্রথম ডিভিশন পেয়েছে ৯১ জন, বাকি চারজন সেকেন্ড ডিভিশন পেয়েছে। সার্বিক ফলাফল ভালো হলেও, বারবার চেষ্টা করেও জেলার মেধা তালিকার প্রথম দশের মধ্যে কিছুতেই মিশনের পড়ুয়ারা ঢুকতে পারছে না বলেই খেদ প্রকাশ করছেন অনেক শিক্ষক শিক্ষিকারা। সারগাছি রামকৃষ্ণ মিশন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক স্বামী তপনিষ্ঠানন্দ মহারাজ বলেন, ‘আমাদের অধিকাংশ পড়ুয়া স্থানীয়। অভিভাবকরা সকলে অতটা সচেতন নন। এজন্য আমরাই জোর করে পড়াই। তাই সার্বিক ফলাফল ভালো হলেও নির্দিষ্ট কোনও পড়ুয়া সর্বাধিক নম্বর পাচ্ছে না।’