


রাঁচি: শ্রাবণ মাসে বৈদ্যনাথ ধামে মহাদেবের মাথায় জল ঢালতে গিয়ে বিপত্তি। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে পুণ্যার্থীদের বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা প্রাণ কাড়ল ৬ পুণ্যার্থীর। জখম আরও ২৩ জন। নিহতের পরিবার পিছু ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও আহতদের ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছে ঝাড়খণ্ড সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের নির্দেশে দেওঘরে পৌঁছন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের সঙ্গে দেখাও করেন তিনি।
বাসটিতে প্রায় ৩৫ জন পুণ্যার্থী ছিলেন। এদিন ভোরে দেওঘরের মোহনপুর ব্লকের জামুনিয়ায় সিলিন্ডার বোঝাই ট্রাকের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিস। স্থানীয়দের সাহায্যে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের দেওঘর এইমসে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগার পরই বাস থেকে পড়ে যান চালক। আর সেই অবস্থাতেই কিছুটা এগিয়ে যায় বাসটি। তারপর রাস্তার পাশের এক ইটের স্তূপে ধাক্কা মেরে থামে। দুর্ঘটনার তীব্রতায় বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছে।
দুমকা জোনের আইজি শৈলেন্দ্র কুমার সিনহা জানান, ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানান, ‘দেওঘরের দুর্ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।’ দুঃখপ্রকাশ করেছেন হেমন্ত সোরেন ও রাজ্যপাল সন্তোষ গাঙ্গোয়ারও। এদিকে, প্রাথমিকভাবে মৃতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা দেখা দেয়। স্থানীয় সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন। যদিও ওই দাবি খারিজ করে দেন সরকারি আধিকারিকরা। ভিত্তিহীন দাবির জন্য বিজেপি সাংসদের সমালোচনা করেছেন রাজ্যে ক্ষমতাসীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মুখপাত্র মনোজ কুমার পান্ডে।