


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে দুপুর থেকে ভিড় জমতে শুরু করেছিল বলাগড়ের গুপ্তিপাড়ায়। বিকেল গড়াতেই শুরু উত্তেজনা। আর সন্ধ্যার আঁধার গাঢ় হতেই গুপ্তিপাড়া বড়বাজারের এক বাড়িতে ঝাঁপিয়ে পড়ল বিপুল ভিড়। প্রায় সাড়ে তিনশো মানুষের চাপে ভেঙে পড়ল তিন-তিনটি দরজা। বন্ধ দরজার পিছনে ৫০০ মাটির সরায় সাজানো ছিল উপাদেয় খাবারদাবার। যে যেমন পারলেন তা লুট করলেন। কেউ খেলেন। কেউ বিলিয়ে দিলেন। কেউ সযত্নে কপালে ঠেকিয়ে সংগ্রহ করে রাখলেন অন্য পাত্রে। এভাবে এক লহমায় লুট হয়ে গেল গুপ্তিপাড়ার জগন্নাথের মাসির বাড়ির ভাঁড়ার ঘর।
কোনও দুর্ঘটনা বা লুটের সত্যি ঘটনা এটি নয়। এই লুটতরাজ শতাব্দী প্রাচীন একটি অনুষ্ঠান। যা পরিচিত ভাণ্ডারলুট নামে। প্রথা অনুযায়ী, জগন্নাথদেব তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মীদেবীর কাছে ফেরেন। সেই অনুষ্ঠানই হল উল্টোরথ। আজ, ৫ জুলাই গুপ্তিপাড়ার সঙ্গে শ্রীরামপুরের ঐতিহ্যবাহী মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরেও সে অনুষ্ঠান পালন হবে। ইতিমধ্যেই গুপ্তিপাড়া ও মাহেশে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার আকাশের ছিল মুখ ভার। সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টি। গুপ্তিপাড়াও ছিল বর্ষণমুখর। তার মধ্যেই বিপুল ভক্ত সমাগম হয় গুপ্তিপাড়ায়। নদী পেরিয়ে নদীয়া থেকে
বহু ভক্ত এসেছিলেন। ভিড় সামলাতে পুলিস ছিল তৎপর। শেষপর্যন্ত খাবার লুট পর্ব সুষ্ঠুভাবেই মিটেছে। গুপ্তিপাড়া রথ আয়োজক কমিটির অন্যতম সদস্য বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, ‘আবহাওয়া খারাপ ছিল। তারপরও বিপুল ভক্ত সমাগমে ঐতিহ্যবাহী ভাণ্ডারলুট অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে মিটেছে। আজ, শনিবার উল্টোরথের জন্য আমরা প্রস্তুত।’
লুটতরাজ অনুষ্ঠানের উৎপত্তি কি? জগন্নাথ ভক্তরা বলেন, গোটা বিষয়টি জগৎপ্রভুর নরলীলা। তিনি রথযাত্রায় মাসির বাড়ি যান লীলা করতে। দীর্ঘদিন স্বামী মন্দিরে না ফেরায় দেবী লক্ষ্মীর সন্দেহ হয়। তিনি ভাবেন, পেটুক স্বামী মাসির বাড়িতে ভালো খাবারদাবার পেয়ে মন্দিরে ফিরছেন না। তাই তিনি ‘গুন্ডা’ পাঠিয়ে মাসির বাড়ির ভাঁড়ার লুট করান। তারপরই অভুক্ত জগন্নাথ উল্টোরথে ফেরেন মন্দিরে। উৎসব আয়োজকরা জানান, এদিন ৫২ পদে জগৎপ্রভুর ভোগের আয়োজন করা হয়েছিল। খিচুড়ি, পোলাও, পনির থেকে মিষ্টির বাহারি আয়োজন ছিল। সবই লুট হয়ে গিয়েছে।