


নয়াদিল্লি: ১৪০ কোটির দেশ ভারত। প্রায় ৪ লক্ষ কোটি ডলারের জিডিপি। সেই হিসেবে ভারতবাসীর মাথাপিছু আয় দাঁড়ায় ২০ হাজার টাকার আশপাশে। কিন্তু দেশের ধনী ১ শতাংশের হিসেব ধরলেই অঙ্ক বদলে যাবে। বারক্লেজের সহযোগিতায় হুরুন ইন্ডিয়া প্রকাশিত রিপোর্ট দেখাচ্ছে, এই ১ শতাংশ, অর্থাৎ ৩০০টি পরিবারের হাতেই সম্পদ রয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের। টাকার অঙ্কে ১৪০ লক্ষ কোটিও বেশি, যা ভারতের জিডিপির ৪০ শতাংশ। এই রিপোর্ট বলছে, ২০২৫ সালেও ভারতের ধনীতম পরিবারের শিরোপা ধরে রেখেছেন রিলায়েন্স গোষ্ঠীর কর্ণধার মুকেশ আম্বানি। রিপোর্ট অনুযায়ী, আম্বানি পরিবারের মোট সম্পদের পরিমাণ ২৮ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের জিডিপির ১২ শতাংশই রয়েছে এককভাবে আম্বানি পরিবারের হাতে। আদানি পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১৪.০১ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই মুহূর্তে আদানি পরিবারের দ্বিগুণ সম্পদ রয়েছে আম্বানি পরিবারের। অর্থাৎ, প্রথম পাঁচটি ধনী পরিবারের হাতেই আছে ৬০ লক্ষ কোটির সম্পদ।
বিগত এক বছরে আম্বানি পরিবারের সম্পদের পরিমাণ ১০ শতাংশ বেড়েছে। অন্য বছরের মতো এবারও দেশের পয়লা নম্বর সম্পদশালী ব্যবসায়ী পরিবারের শিরোপা ধরে রেখেছেন মুকেশ আম্বানিরা। আবার প্রথম প্রজন্মের শিল্পোদ্যোগী পরিবারগুলির মধ্যে শীর্ষে গৌতম আদানিরা। ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে কুমার মঙ্গলম বিড়লা গোষ্ঠীর সম্পদের পরিমাণ হয়েছে ৬.৪৭ লক্ষ কোটি টাকা। এর ফলে বহু প্রজন্মের ব্যবসায়ী পরিবারগুলির মধ্যে সম্পদের নিরিখে একধাপ উপরে উঠে তাঁরা দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন। ২১ শতাংশ সম্পদ বেড়েছে জিন্দাল পরিবারের। এক ধাপ উঠে জিন্দাল পরিবার তৃতীয় স্থান দখল করেছে। বাজাজ পরিবার আবার এক ধাপ পিছিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছে। তাঁদের সম্পদের পরিমাণ ২১ শতাংশ কমেছে। রিপোর্টে প্রকাশ, এই ৩০০টি পরিবার বিগত এক বছরে প্রতিদিন ৭ হাজার ১০০ কোটির সম্পদ বৃদ্ধি করেছে। আর ১০০ কোটি ডলারের বেশি (প্রায় ৮ হাজার ৭০০ কোটি) সম্পদের অধিকারী পরিবারের সংখ্যা ৩৭টি বেড়ে হয়েছে ১৬১টি।
এই রিপোর্ট সামনে আসার পরই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে কংগ্রেস। লক্ষ্য একটাই, দেশে বৈষম্যের পরিবেশ। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, ‘অবাক হওয়ার কিছুই তো নেই! গত ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী একদিনও ছুটি না নিয়ে এই শিল্পপতিদের কয়েকজনের কোষাগার ভরাতে সদা ব্যস্ত থেকেছেন।’ বিরোধীদের সাফ কথা, আর্থিক অগ্রগতির গালভরা যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার সুফল থেকে অগণিত সাধারণ জনতা বহু দূরে। কংগ্রেসের তোপ, ভারতের বৈষম্যের এই পরিবেশ বর্তমানে বড় আর্থ-সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। মাত্র পাঁচটি শিল্পপতি পরিবারের হাতে রয়েছে জিডিপির ১৮ শতাংশ বা ৬০ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ। কেন্দ্রের মোদি সরকার বৈদেশিক, অর্থনৈতিক ও শিল্প সংক্রান্ত নীতিগুলি শুধুমাত্র বাছাই করা কিছু শিল্পপতি বন্ধুকে সুবিধাদানের লক্ষ্যে তৈরি করছে। এর মূল্য চোকাতে হচ্ছে দেশের ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং গরিব ও নিম্নবিত্ত মানুষকে। এই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের জয়রাম রমেশের তোপ, ‘সরকারের স্তাবকরা দল বেঁধে প্রচারে নেমেছেন, দেশে কতই না অর্থনৈতিক সাম্যের পরিবেশ গড়ে ওঠেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এই রিপোর্ট সরকারের এই স্তাবকদের বাস্তবের আয়না দেখাচ্ছে।’ কারণ, ওই ৩০০ পরিবারের সম্পদ বাদ দিলে, আম আদমির মাথাপিছু আয় কিন্তু নেমে আসে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার টাকায়। হিসেব বদলের অঙ্কটা এখানেই এসে মেলে।