Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শুনানির মুখে পড়বেন ৪০ লক্ষ ভোটার!

ইনিউমারেশন পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। তার আগেই অবশ্য সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য—রাজ্যে শুনানির মুখে পড়তে চলেছেন প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটার।

শুনানির মুখে পড়বেন ৪০ লক্ষ ভোটার!
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভঙ্কর বসু, কলকাতা: ইনিউমারেশন পর্ব প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। তার আগেই অবশ্য সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য—রাজ্যে শুনানির মুখে পড়তে চলেছেন প্রায় ৪০ লক্ষ ভোটার। শুক্রবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, এই ৪০ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে। কিন্তু তাঁদের শুনানির সম্মুখীন হতেই হবে।

Advertisement

কমিশন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ৭ কোটি ৬০ লক্ষ ৪৪ হাজার ১৪৫টি (৯৯.২৩ শতাংশ) ফর্ম ডিজিটাজেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ম্যাপিং না হওয়া ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ৫৪১। এর মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত এবং অনুপস্থিত ভোটাররা রয়েছেন। তাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রায় নিশ্চিত। পাশাপাশি জেলায় জেলায় ডিজিটাইজড হওয়া ফর্মগুলি বিশ্লেষণ করে সামনে এসেছে আরও ৪০ লক্ষ নাম। জানা গিয়েছে, ওই ভোটাররা ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন। কিন্তু তাঁদের নাম ২০০২-এর তালিকায় নেই। আবার আত্মীয় হিসেবেও ফর্মে সর্বশেষ এসআইআরে নাম থাকা কাউকে দেখাননি। সূত্রের খবর, ফর্মের নীচের কোনও অংশ পূরণ না করেই জমা দিয়েছেন এই ৪০ লক্ষ ভোটার। 
নিয়ম অনুযায়ী, ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করলেই খসড়া তালিকায় সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম উঠবে। যেহেতু ফর্ম পূরণ করেছেন, তাই এই ৪০ লক্ষ ভোটারের নামও থাকবে তালিকায়। তবে তালিকা প্রকাশের পরই তাঁদের নোটিশ পাঠাবেন সংশ্লিষ্ট ইআরওরা। এবং শুনানিতে উপস্থিত হয়ে কমিশন নির্ধারিত ১১টি নথির যে কোনও একটি দেখিয়ে প্রত্যেককে প্রমাণ করতে হবে, তিনি এদেশের ভোটার। ইআরও ওই নথি যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে তবেই সংশ্লিষ্ট ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। 
ইতিমধ্যেই ডিজিটাইজড হওয়া যাবতীয় ফর্ম বিএলওরা ফের যাচাই করছেন। যাঁরা ইনিউমারেশন ফর্মে নীচের অংশ পূরণই করেননি, তাঁদের আলাদা করে চিহ্নিত করতে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এজন্য বিএলও আ্যাপে ‘ইলেক্টর হ্যাজ নট শোন এনি লিংক/ম্যাপিং উইথ লাস্ট এসআইআর’ নামে একটি নয়া ট্যাব যুক্ত করা হয়েছে। সেটির মাধ্যমেই এ ধরনের ভোটারদের তথ্য নথিভুক্ত করছেন বিএলওরা। ১১ ডিসেম্বরের মধ্যেই এই কাজ শেষ হবে। তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এক্ষেত্রেও এগিয়ে শহরাঞ্চল। অর্থাৎ গ্রামের তুলনায় লিংক ও ম্যাপিং না করা ভোটার সংখ্যা শহরেই বেশি। যদিও কমিশনের এক কর্তার কথায়, এখনও পর্যন্ত যাচাই পর্ব চলছে। খসড়া তালিকায় এই সংখ্যার হেরফের হতে পারে।
এদিনই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির এসআইআর পর্ব খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট সিইওদের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বৈঠক করেছে কমিশন। তাতে বিএলওদের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রকাশ থেকে শুরু করে একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ