


শ্রীনগর: বিস্তীর্ণ পাইন বন ঘিরে রেখেছে সবুজ তৃণভূমি। রোদ ঝলমলে পাহাড়ের বুক। পাইন গাছের ফাঁক দিয়ে উপভোগ করা যায় তুষারাবৃত পাহাড়। সবুজে ঘেরা উপত্যকায় বসে প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডা বা ঘোড়া সাফারি— পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকা পর্যটকদের কাছে ‘মিনি সুইৎজারল্যান্ড’। সেই বৈসরণই ‘মৃত্যু উপত্যকা’য় হয়েছে গত বছর। ২২ এপ্রিল। প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্যের কোলাহল নিস্তব্ধ আতঙ্কভূমি হল কার দায়ে? সবুজের প্রান্তর রক্তে ভিজল কাদের গাফিলতিতে? কেন প্রাণ হারাতে হল ২৬ জন সাধারণ মানুষকে? এই প্রশ্ন নিয়েই এক বছর পার করল পহেলগাঁও হামলার ঘটনা।
ধাক্কার পর থেকে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পহেলগাঁও সহ গোটা কাশ্মীর। গত বছরের ঘটনার পর ৫০টির বেশি পর্যটনস্থল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সেগুলির মধ্যে ৩৯টি খুলে দেওয়া হল। তবে অকুস্থল বৈসরণ এখনও বন্ধই রয়েছে। সর্বক্ষণ সিআরপিএফ ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে সেখানে। পাইন বন সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছেন সেনাকর্মীরা। পর্যটকরা ঘোড়ায় চেপে যান বৈসরণের মুখ পর্যন্ত। তবে ঢুকতে দেওয়া হয় না তাঁদের। প্রাথমিক ধাক্কার পর পহেলগাঁওয়ের একাংশ ছন্দে ফিরেছে। পহেলগাঁও শহরে দোকান, হোটেল খুলেছে। স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীদের দাবি, মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে পর্যটক বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে আগের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যটক ফিরেছেন। এছাড়াও টিউলিপ গার্ডেন, সোনমার্গ সহ একাধিক পর্যটনস্থল নতুন করে পর্যটকদের কোলাহলে মুখরিত। জঙ্গি আতঙ্ক কাটাতে শুরু হয়েছে কিউআর কোড ব্যবস্থা। পাশাপাশি কড়া নিরাপত্তার বেড়াজাল ঘিরে রয়েছে গোটা এলাকায়।
পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিদের হামলায় নিহতদের স্মরণ করে বুধবার সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, ‘এই যন্ত্রণার সঙ্গে লড়াই করা শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির কথা চিন্তা করে আমি উদ্বিগ্ন।’ তাঁর স্পষ্ট বার্তা— ‘ভারত কখনোই সন্ত্রাসের সামনে মাথা নত করবে না।’ পহেলগাঁও হামলার পর ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ নাস্তানাবুদ হয়েছিল পাকিস্তান। এক বছর পর সেই কথা প্রতিবেশী দেশকে স্মরণ করিয়েছে সেনা। সম্প্রতি সেনার তরফে সমাজমাধ্যমে লেখা হয়েছে, ‘ভারত কখনোই ভুলবে না। কিছু সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়।’ লোকসভার বিরোধী দলনেতা বুধবার লিখেছেন, ‘ভারত কখনো ঘৃণা আর ভয়ের কাছে মাথা নত করবে না।’
পহেলগাঁওয়ের হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল ভারত। আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পালটা আকাশসীমা বন্ধ করে ইসলামাবাদও। মঙ্গলবার পাকিস্তানের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ মে পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। সম্প্রতি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তে জানিয়েছে, পহেলগাঁও হামলার মূল চক্রী ছিল পাকিস্তানের কাসুর এলাকার বাসিন্দা শাজিদ সাইফুল্লা। সে লস্কর-ই-তইবার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের প্রধান। পাকিস্তানে বসেই সে পহেলগাঁও হামলার ছক কষেছিল। এনআইএ তার বিরুদ্ধে ১০ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছে। ইউএপিএ আইনে নিষিদ্ধ জঙ্গি হিসেবেও ঘোষণা করা হয়েছে তাকে। গত বছরই ‘অপারেশন মহাদেব’-এ নিহত হয় তিন পাকিস্তানি জঙ্গি।