


বিশেষ সংবাদদাতা, রায়পুর: ছত্তিশগড়ের বিজাপুরে বড়সড় মাওবাদী দমন অভিযানে নেমেছে তিন রাজ্যের যৌথ বাহিনী। ১ হাজারের বেশি মাওবাদীকে ঘিরে ফেলেছেন বাহিনীর ২০ হাজার জওয়ান। সূত্রের খবর, মাওবাদী দমনে এতবড় অভিযান এর আগে হয়নি। অর্থাৎ মাওবাদীদের বিরুদ্ধে এটাই বাহিনীর সর্ববৃহৎ অভিযান। ছত্তিশগড়, তেলেঙ্গানা ও মহারাষ্ট্রের যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে অংশ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় পাঁচ মাওবাদীর। তিন মহিলার দেহ ইতিমধ্যে উদ্ধার করা হয়েছে। মিলেছে প্রচুর অস্ত্র। গত ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে এই বিশেষ অভিযান চলছে।
বিজাপুরের জঙ্গলে কমান্ডার হিদমা, ব্যাটালিয়ন প্রধান দেবার মতো মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতারা লুকিয়ে রয়েছেন। রয়েছেন মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি, তেলেঙ্গানা স্টেট কমিটির সদস্যরাও। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়েই গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে ডিস্ট্রিক্ট রিজার্ভ গার্ড, বস্তার রাইফেলস, এসটিএফ, রাজ্য পুলিস। সঙ্গে রয়েছেন সিআরপিএফ ও তাদের কোবরা বাহিনীর জওয়ানরা। সোমবার থেকে এই অভিযানের উপর নজর রাখছেন সিআরপিএফের ডিজি জি পি সিং। বর্তমানে ছত্তিশগড়-তেলেঙ্গানা সীমান্তের কারেগুট্টা পাহাড় ঘিরে রেখেছে বাহিনী। ঘন বনাঞ্চল ঘেরা এই এলাকাকে মাওবাদীদের ১ নম্বর ব্যাটালিয়নের ঘাঁটি হিসেবে মনে করা হয়। সিআরপিএফের এক আধিকারিক জানান, ওই এলাকায় একটি বাঙ্কারের কাছেই হিদমার উপস্থিতির খবর মিলেছে। তার খোঁজ পেতে আকাশপথে তল্লাশি চালাচ্ছে কমপক্ষে চারটি হেলিকপ্টার। কয়েকদিন আগে এই পাহাড়ি অঞ্চলে প্রবেশ নিয়ে গ্রামবাসীদের সতর্ক করেছিল মাওবাদীরা। বিবৃতি দিয়ে তারা জানিয়েছিল, অঞ্চলে একাধিক আইইডি বসানো রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানেই বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে পাঁচ মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদী মুক্ত করা হবে। ছত্তিশগড় সহ একাধিক রাজ্যে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান চালাচ্ছে বাহিনী। চলতি বছরে শুধু ছত্তিশগড়েই প্রায় দেড়শো মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২৪ জনকে খতম করা হয়েছে বস্তার ডিভিশনে। ঝাড়খণ্ডেও অভিযান চলছে জোর কদমে। গত সপ্তাহে বোকারোয় আট মাওবাদী নিকেশ করেছে সিআরপিএফের কোবরা বাহিনী। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন এক শীর্ষ মাওবাদী নেতা।