নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ফের দুর্ঘটনার বলি ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে। বুধবার রাতে দু’টি পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। সাঁকরাইলের রানিহাটি মোড়ে জাতীয় সড়কের কলকাতাগামী লেনে বেপরোয়া লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয় ইফতিকার হাসান মল্লিক নামের ১৪ বছরের এক কিশোরের।দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে জাতীয় সড়কের জগদীশপুর ও কোনা হাইরোড মোড়ে। সেখানে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে যান বাইকচালক ও এক আরোহী। পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয় বাইক চালক নুর মহম্মদের (৫২)। তাঁর সঙ্গী গুরুতর জখম। দু’টি ঘটনাতেই উত্তেজিত জনতা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। ভাঙচুর করা হয় ট্রাফিক কিয়স্কও। পরিস্থিতি সামলাতে নামে বিশাল পুলিসবাহিনী ও র্যাফ। প্রসঙ্গত, ওইদিন বিকেলে বাগনানে জাতীয় সড়কের উপর তামুলতলায় বাসের চাকায় পিষে মৃত্যু হয় গৃহবধূ শামসাদ আখতার বেগমের। তিনি ভাইয়ের স্কুটারে করে ছেলেকে হস্টেল থেকে আনতে যাচ্ছিলেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ রানিহাটি মোড়ে জাতীয় সড়ক পারাপার চলছিল। রাস্তা পার করে আমতা রোডের দিকে যাচ্ছিল দু’টি বাইক। সিগন্যাল লাল থাকা সত্ত্বেও কলকাতাগামী লেনে দ্রুতগতিতে মোড়ের মাঝামাঝি চলে আসে একটি পণ্যবাহী লরি। পরপর দু’টি বাইককে ধাক্কা মারে সেটি। ছিটকে পড়েন দুই বাইকে থাকা চারজন। লরির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কিশোর ইফতিকারের। কলকাতা থেকে ঈদের বাজার সেরে বাবার সঙ্গে উদয়নারায়ণপুরের বাড়িতে যাচ্ছিল সে। অন্য বাইকে থাকা দুই ভাই-বোন জখম হন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন সাঁকরাইল থানা ও ট্রাফিকের পুলিসের আধিকারিকরা। তাঁরা চারজনকেই উদ্ধার করে নিয়ে যান গাববেড়িয়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে ডাক্তাররা ওই কিশোরকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিশোরের বাবা ও অন্য বাইকে থাকা দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘাতক লরিটিকে আটক করেছে পুলিস। তবে চালক পলাতক। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘক্ষণ জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক থেকে রানিহাটি-আমতা রোডে যাতায়াতের জন্য সিগন্যালের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তাই এখানে দ্রুত আন্ডারপাস করতে হবে।
ওইদিন গভীর রাতে ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে জগদীশপুর যাওয়ার সময় কোনা হাই রোড মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইক নিয়ে পড়ে যান দুই আরোহী। পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি লরি ধাক্কা মারলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাইক চালক নুর মহম্মদের। গুরুতর জখম হন তাঁর সঙ্গী। ঘটনার পর ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি লরি ও লিলুয়া থানার ট্রাফিক কিয়স্কে ভাঙচুর চালায়। এরপর হাওড়া সিটি পুলিসের তরফের র্যাফ নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দু’টি ঘটনাতেই জাতীয় সড়কে বেপরোয়া গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে পুলিসের শিথিল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিজস্ব চিত্র