Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নিজেই প্রতিমা বানায়, মন্ত্র পড়ে পুজো করে ১১ বছরের দেবাংশু

সাত বছরের একটি শিশু খেলাধুলো করতে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙে, বকুনি খায়, কাঁদে। ইত্যাদি করাই স্বাভাবিক। সাত বছরের একটি ছেলে যদি না ভেঙে গড়ে ফেলে কিছু, তখনই অবাক লাগে। তাই দেবাংশু শীলকে দেখে অবাকই হয় সবাই।

নিজেই প্রতিমা বানায়, মন্ত্র পড়ে পুজো করে ১১ বছরের দেবাংশু
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বপন দাস, কাকদ্বীপ: সাত বছরের একটি শিশু খেলাধুলো করতে গিয়ে জিনিসপত্র ভাঙে, বকুনি খায়, কাঁদে। ইত্যাদি করাই স্বাভাবিক। সাত বছরের একটি ছেলে যদি না ভেঙে গড়ে ফেলে কিছু, তখনই অবাক লাগে। তাই দেবাংশু শীলকে দেখে অবাকই হয় সবাই। 

Advertisement

মা খেলতে পাঠাতেন। ছেলে না খেলে পুকুরে যেত মাটি আনতে। ছোট তালুতে ভরে মাটি আনত। সবার চোখের আড়ালে বসে বানাত মূর্তি। কোথা থেকে শিখেছে? বলে কি না, ‘কুমোরপাড়ায় দেখে শেখা।’ তা বানাতে বানাতে সে মূর্তি একদিন দুর্গা হয়ে উঠল। ছোট হাতে বানানো, ছোট কল্পনায় তৈরি দুর্গা। তবে দেখে তো তা মনে হয় না। মনে হয় ওস্তাদ কোনও কুমোর বানিয়েছে বুঝি। তা সাত বছরে এত ওস্তাদ হয়ে গেল ছেলে! ‘মায়ের কৃপা থাকলে কি না হয়,’ বলল পাড়ার লোক। দেবাংশু সাত বছরেই হয়ে উঠল শিল্পী। তারপর আরও চারবছর গড়িয়েছে। এখন বয়স ১১। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ছে। এখন আরও হাত পেকেছে। কাকদ্বীপের রথতলার বাসিন্দা শিশুটি যে জাত শিল্পী, এ কথা ছড়িয়ে পড়েছে কাকদ্বীপ ছাড়িয়ে, দূরে। তার তৈরি মূর্তি দেখতে লোকজন দূর থেকে কাকদ্বীপে আসে। দেবাংশু মূর্তি বানিয়েই শান্ত নয়। সে পুজোও করে। তার সাইজের সঙ্গে মানানসই একটি ধুতি পরে। গায়ে চড়ায় নামাবলি। তারপর পুজোয় বসে। হাতে থাকে দুর্গাপুজো পদ্ধতি বই। মন্ত্র কিছু শিখেছে, কিছু বই দেখে পড়ে। শুদ্ধাচারে সম্পন্ন করে দুর্গার কঠিন পুজো। শিশুর গলায় সে মন্ত্রোচ্চারণের আকর্ষণে ভিড় বাড়ছে ফি বছর। প্রতিবছরই ষষ্ঠী ও অষ্টমীতে প্রতিবেশীরা পুজোর ডালা দেন। 
লাবণী রানা নামে তার এক প্রতিবেশী বলেন, ‘নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করে। প্রতিমাটিও দেখতে খুব সুন্দর। এত অল্প বয়সে দেবদেবীর প্রতি এই ভক্তি তেমন চোখে পড়ে না।’ দেবাংশুর মা হৈমন্তী শীল বলেন, ‘ও খুব ছোটবেলা থেকেই পুকুর পাড়ের কাদা তুলে নিয়ে এসে বিভিন্ন ধরনের মূর্তি তৈরি করত। একসময় দুর্গাপ্রতিমা বানাল। করে নিজেই পুজো শুরু করল। সেই পুজোই প্রতিবছর হচ্ছে। নিজেই প্রতিমা বানিয়ে নিজেই পুজোর আয়োজন করে। পুজোর চারদিন ভাত খায় না। ফল আর সাবুটাবু খায়।’ দেবাংশু বলে, ‘আমি পড়াশোনার ফাঁকে সময় বের করে ঠাকুর বানাই। এ কাজে সবাই আমাকে খুব উৎসাহ দেন।’

সম্পর্কিত সংবাদ