Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তিস্তা ও করলা নদীর পলি-বালি তুলতে আগ্রহী ১০টি সংস্থা, চলছে মাটি পরীক্ষা

জলপাইগুড়ি শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে করলা নদী। শহরের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে তিস্তা। জেলার বড় খরস্রোতা তিস্তা পলি ও বালির চাপে অনেটাই থিতিয়ে পড়েছে।

তিস্তা ও করলা নদীর পলি-বালি তুলতে আগ্রহী ১০টি সংস্থা, চলছে মাটি পরীক্ষা
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জলপাইগুড়ি শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়েছে করলা নদী। শহরের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে তিস্তা। জেলার বড় খরস্রোতা তিস্তা পলি ও বালির চাপে অনেটাই থিতিয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালে সিকিমের হ্রদ বিপর্যয়ের পর তিস্তা নদীগর্ভ অনেকটাই উঁচু হয়ে আছে। আর করলার একাংশ তো দূষণে জেরবার। তিস্তা ও করলা থেকে পলি বালি তুলে নতুন ভাবে নদী দু’টির প্রাণ ফিরিয়ে দিতে উদ্যোগী হয়েছে প্রশাসন। পাহাড় থেকে নেমে আসা তিস্তা এবং শহরের করলার বালি ও পলি তুলতে আগ্রহী অন্তত ১০টি সংস্থা। সেভকের কাছে লালটং, চমকডাঙি, গজলডোবার মিলনপল্লি, ক্রান্তির চ্যাংমারি, ময়নাগুড়ির বাঁকালি সহ তিস্তার ৪০ কিমি এলাকায় প্রথম পর্যায়ে ড্রেজিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরুর আগে তিস্তার বালি ও পলি পরীক্ষার কাজ চলছে এখন। 

Advertisement

সেচদপ্তর সূত্রের খবর, কোন এলাকায় তিস্তার বালি ও পলির ধরন কী, তা পরীক্ষার জন্য ইতিমধ্যেই ৫টি জায়গা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শীঘ্রই আরও ৫টি এলাকা থেকে তিস্তার পলি ও বালি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কোচবিহারে সেচদপ্তরের ল্যাবে পাঠানো হবে। তিস্তার গর্ভে পলির সঙ্গে যেহেতু বালি রয়েছে, সেকারণে পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রও প্রয়োজন। ওই ছাড়পত্র মিললেই ড্রেজিং করে তোলা পলি ও বালি বিক্রির জন্য জারি করা হবে অকশনের নোটিস। গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে।  
মঙ্গলবার সেচদপ্তরের উত্তর-পূর্বের ভারপ্রাপ্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, নো কস্ট টু দ্য স্টেট অর্থাৎ রাজ্যের কোনও খরচ ছাড়াই তিস্তা ও করলা নদীর ড্রেজিংয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জেলাশাসকের নেতৃত্বে এ ব্যাপারে যে বৈঠক হয়, সেখানে অন্তত ১০টি সংস্থার প্রতিনিধিরা তিস্তা ও করলার পলি ও বালি নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে হাজির ছিলেন। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়াও এনিয়ে দিন কয়েক আগে বৈঠক করেছেন। তিস্তায় যেহেতু মাটির সঙ্গে বালিও রয়েছে, সেকারণে ড্রেজিংয়ের জন্য পরিবেশ বিভাগের ছাড়পত্র প্রয়োজন। তিস্তার কোন এলাকায় কেমন পলি ও বালি রয়েছে, তা পরীক্ষা করে আমরা দেখছি। এরজন্য ১০টি জায়গা থেকে ওই নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, গোটা নদীপথ ড্রেজিং করা সম্ভব নয়, প্রথম পর্যায়ে তিস্তায় ৪০ কিমি এলাকা থেকে পলি ও বালি তোলা হবে। যে সংস্থা বরাত পাবে, তারাই ওই বালি ও পলি নিয়ে নেবে। বিনিময়ে রাজ্য সরকারকে তারা রাজস্ব দেবে।  তিস্তায় বালির চর। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ