Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিবিধ

‌অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি পূরবী রায় (গবেষক)

‌অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি
পূরবী রায় (গবেষক)
  • ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বর্তমানের সঙ্গে আমার পরিচয়ের উপলক্ষ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। নেতাজির প্রতি বরুণ সেনগুপ্তের আবেগই ছিল এর নেপথ্য কারণ। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডে আমার প্রতিবেশী হয়ে এল নতুন সংবাদপত্র ‘বর্তমান’। তখন থেকেই আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। যেখানে কাগজ প্যাক করা হতো, তার ঠিক পাশেই আমাদের বাড়ি এবং সেইদিকেই আমার শোওয়ার ঘর। রাতে কাগজ ছাপার পর যখন ভোরে প্যাকিং হয়ে বেরত সেই শব্দে আমার ঘুম ভাঙত। অনেক দিন দেখেছি বরুণবাবু ওই সময়ে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতেন। যাইহোক, নেতাজি নিয়ে আমার গবেষণা যখন তুঙ্গে, তখন ঠিক হয়েছিল সেইসব কথা বর্তমান-এ বেরবে। কিন্তু আমি তখন আমার নাম ব্যবহার করতে একেবারেই রাজি ছিলাম না। তখন উনিই প্রস্তাব দিলেন পবিত্র ঘোষ লিখবেন, আমি তথ্য সরবরাহ করব। সেই মতো কাজ শুরু হল। প্রতি বৃহস্পতিবার সেই কলাম শুরু হল। প্রথমদিন থেকেই মারমার কাটকাট ব্যাপার হতে লাগল। যাকে বলা যায় চারদিকে একেবারে হুলুস্থূলু পড়ে গেল। নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে কলামটি এতই জনপ্রিয় হল যে, একেবারে দিল্লি পর্যন্ত তোলপাড় হল। তখনকার এক অত্যন্ত প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দপ্তর থেকে নির্দেশ এল— এই লেখা এখনই বন্ধ করতে হবে। বরুণবাবু তখন বেঁকে বসলেন। তিনি আপসহীন। বললেন, এমন একটি লোকপ্রিয় লেখা হঠাৎ বন্ধ করা যাবে না। তাতে যতদূর যেতে হয় যাব। যথারীতি সেই চাপ উত্তরোত্তর বাড়তে লাগল। শুনেছিলাম, সেই মন্ত্রীর সঙ্গে বরুণবাবুর সম্পর্কে তিক্ততা ছায়া ফেলল। কিন্তু খুব স্বাভাবিকভাবেই একটা সময়ে সেই কলামটি বন্ধ হল। কিন্তু আমার সঙ্গে ‘বর্তমান’-এর সম্পর্ক শেষ হল না। বরুণবাবুর পুত্রবৎ সাংবাদিক ভাইবোনেরা আসতে লাগলেন বাড়িতে। আমি হলাম তাঁদের দিদি। পরে জানলাম বরুণবাবুই তাঁদের পাঠাতেন আমার খোঁজ নিতে। উনি নিজেও প্রায় নিয়ম করে সকালে একবার করে ফোনে খবর নিতেন কেমন আছি। তাঁর সঙ্গে অনেকবার ওঁর অফিসে গিয়ে নানা কথাবার্তা হয়েছে। কী করে কাগজ আরও ভালো করা যায়, সেইসব কথা আলোচনা করতেন। চোখের সামনে যে কাগজ হল, তারপর এতগুলো বছর কাটিয়ে আজ সেই কাগজ একচল্লিশতম জন্মদিন উদ্‌যাপন করছে। এতে গৌরব হয় বই কি! কেন জানি না, আজও বর্তমান-কে বাঙালি পাঠক নিজের কাগজ বলেই বিশ্বাসে ধরে রেখেছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ