Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিবিধ

পুরীর ঐতিহ্যবাহী ‘গুণ্ডিচা মার্জন’ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আজও পালিত হয়ে আসছে মহা সমারহে

পুরীর গুণ্ডিচা মার্জন অনুষ্ঠানে মন্দির পরিষ্কার ও পবিত্র করা হয়। এটি ভক্তদের অন্তরের শুদ্ধতার প্রতীক। বিস্তারিত পড়ুন।

পুরীর ঐতিহ্যবাহী ‘গুণ্ডিচা মার্জন’ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আজও পালিত হয়ে আসছে মহা সমারহে
  • ১৫ জুন, ২০২৬ ১৭:২৫
Prefer us on Google

ভূবনেশ্বর, ১৫ জুন: পুরী। হিন্দু ধর্মে যার মাহাত্ম্য অন্যতম। এবং চার ধাম গুলির মধ্যে পুরী একটি। সামনেই রথ যাত্রা উত্সবকে ঘিরে সাজো সাজো রব সমগ্র পুরীজুড়ে। এই রথ যাত্রার সঙ্গে ওতোপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পুরীর জগন্নাথ মন্দির। তাছাড়াও আছে আরো একটি মন্দির যার গুরুত্ব অপরিসীমাত্ম্য অাত্মিক ধর্মস্থান । যেই মন্দিরে রথের দিন থেকে টানা ৭দিন জগন্নাথ, শুভদ্রা, বলভদ্র অবস্থান করেন। সবার কাছে তা গুণ্ডিচা মন্দির নামেই পরিচিত। রথের আগের দিন এই গুণ্ডিচা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় এক ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান বা পরম্পরা, যা ‘গুণ্ডিচা মার্জন’ নামে পরিচিত। এই রীতি পালিত হয়ে আসছে কয়েক শতাব্দী থেকে। কিন্তু কী এই ‘গুণ্ডিচা মার্জন’?

Advertisement

গুণ্ডিচা মার্জন হল সেই বিশেষ অনুষ্ঠান, যার মাধ্যমে রথযাত্রার আগের দিন গুণ্ডিচা মন্দিরকে পরিষ্কার ও পবিত্র করা হয়। রথযাত্রার সময় ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রা এই মন্দিরে ৭ দিন অবস্থান করেন। তাই তাঁদের আগমনের পূর্বে মন্দিরকে শুচি ও পবিত্র করে তোলার এই প্রাচীন প্রথা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পালন হয়ে আসছে। ঐতিহাসিকভাবে এই আচারটির সূচনা করেছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। তিনি নিজে ভক্তদের সঙ্গে হাতে ঝাড়ু নিয়ে গুণ্ডিচা মন্দির পরিষ্কারে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর সেই নিঃস্বার্থ সেবার আদর্শ আজও লক্ষ লক্ষ ভক্তকে অনুপ্রাণিত করে। ভোর থেকেই মন্দির প্রাঙ্গণে জমায়েত হন সেবায়েত, পুরোহিত ও অসংখ্য ভক্ত। ঝাড়ু, বালতি এবং জল নিয়ে তাঁরা মন্দিরের প্রতিটি অংশ যেমন মেঝে, প্রাচীর, গর্ভগৃহ ও মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করেন। তার সঙ্গে চারদিকে ভেসে আসে হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তিগীতি। ফুল ও চন্দনের সুবাসে পবিত্র হয়ে ওঠে সমগ্র মন্দির প্রাঙ্গণ। 

এটি কি কেবল মন্দিরের শুদ্ধিকরণ? না কি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো তাত্পর্য? ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গুণ্ডিচা মার্জন কেবল বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার অনুষ্ঠান নয়। এটি মানুষের অন্তরের অশুদ্ধতা দূর করারও একটি প্রতীক। ভক্তরা মনে করেন, যেমনভাবে তাঁরা গুণ্ডিচা মন্দির পরিষ্কার করেন, তেমনি নিজেদের হৃদয়কেও ঈশ্বরের আগমনের উপযুক্ত করে তোলেন। এমনটাই বিশ্বাস নিয়ে প্রতি বছর ভক্তরা এই অনুষ্ঠান ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে আসছেন সারম্বরে। জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গুণ্ডিচা মন্দিরকে ভগবান জগন্নাথের ‘মাসির বাড়ি’ বলেও অভিহিত করা হয়। রথযাত্রা উৎসবের সঙ্গে এই মন্দিরের ধর্মীয় সম্পর্ক ওড়িশার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ