


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ৬০০ টন মাছের চারা বিলি হবে। দেড় কোটি টাকার প্রকল্প। তা নিয়ে এবার হাবুডুবু খাচ্ছে হুগলি জেলা পরিষদ। বুধবার থেকে হুগলিতে মাছের চারা বিলি শুরু হয়েছে। কিন্তু প্রথমদিনই চারার পরিমাণ ও গুণমান নিয়ে মৎস্যজীবীরা আপত্তি তুলেছেন। জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিজ্ঞতাহীন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে বিলির কাজ শুরু হয়েছিল। তাতেই ডামাডোল বাধে। মাছ চাষের উপযোগী চারা জোগাড় করতে গোষ্ঠীগুলি সমস্যায় পড়েছে। গুণমান ও পরিমাণ নিয়ে সরকার নির্দেশিত হিসেব ফেলেছে গুলিয়ে। প্রথমদিনের বিলিবণ্টন কোনওমতে শেষ হয়েছে। কিন্তু মার্চ মাসের মধ্যে বাকি প্রায় সাড়ে ৫০০ টন চারা কিভাবে মিলবে তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, সমস্যা নয়, জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আর্থিকভাবে শক্তিশালী করতে চেয়েছে। আবার সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্যজীবীদের আয়ের পথ ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে চেয়েছে। মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির অনভিজ্ঞতার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলেছি। রাজ্য সরকারের দু’টি পরিকল্পনাই যাতে সফল হয় তার জন্য প্রয়াস চালানো হচ্ছে। মার্চের ৩১ তারিখ পর্যন্ত সময় আছে। সব কিছু সময়ের মধ্যেই করে ফেলা হবে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। প্রকল্পের উপভোক্তা এক মৎস্যজীবী বলেন, রুই, কাতলা ও মৃগেলের চারা দেওয়ার কথা ছিল। সেগুলির একটি নির্দিষ্ট মাপ ও পরিমাণ আছে। কিন্তু গোষ্ঠীগুলি তা মানেনি। এতে চাষের সমস্যা হবে। জেলা পরিষদের কর্তারা সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আর্থিক উন্নতির লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প তাদের হাতে দেওয়া হয়েছিল। পঞ্চায়েত দপ্তরের মাধ্যমে রাজ্য ওই প্রকল্প রূপায়ণ করছে। হুগলি জেলায় পঞ্চায়েত দপ্তর চিহ্নিত ন’টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী চারা দেওয়ার বরাত পায়। তিনহাজার উপভোক্তাকে দিতে ৬০০ টন চারা বণ্টনের কাজ বুধবার শুরু হয়। হুগলির আরামবাগ মহকুমার পুরশুড়াতে একটি ক্যাম্প হয়েছিল। সেখানে চারার পরিমাণ, আকার ও গুণমান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থলে পাঠায় জেলা পরিষদ। জানা গিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের কাছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর একাংশ এই কাজ থেকে অব্যাহতি চেয়েছে। তাদের বক্তব্য, সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কিনে মৎস্যজীবীদের চারা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু অভিজ্ঞতা না থাকায় কাঁচামাল সংগ্রহে ত্রুটি থেকে গিয়েছে। এখন বিপুল সংখ্যক চারা জোগাড় নিয়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ফলে প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা ঘনিয়ে উঠেছে।