


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: বৃদ্ধতন্ত্রের মোড়ক ছিঁড়ে এবার যৌবনের জয়গানে মাতল সিপিএম। অন্তত কাকদ্বীপ সহ বেশ কিছু এলাকায় তাদের প্রার্থী নির্বাচন সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী ৪৫ বছরের নারায়ণ দাস। অথচ ১৯৬৭ সাল থেকে এই কাকদ্বীপ কেন্দ্রে সিপিএমের প্রার্থী হতেন প্রবীণরাই। এটাই ছিল রীতি। এখানে সিপিএমের প্রথম প্রার্থী হয়েছিলেন হৃষিকেশ মাইতি। সেই থেকে এখানে প্রতিটি বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম যাঁদের প্রার্থী করত, তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন ষাটোর্দ্ব। কিন্তু এই প্রথমবার কাকদ্বীপ বিধানসভা কেন্দ্রে সিপিএম দলের এক যুবনেতার উপর ভরসা রাখল।
কাকদ্বীপে ২০১৫ সালে স্থানীয় এক ছাত্রী রানু বিশ্বাসকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়ে উঠেছিল। সিপিএমের যুবনেতা নারায়ণ দাস সেই আন্দোলনের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে মিটিং, মিছিল ও বারবার পথ অবরোধের ফলে পুলিশ প্রশাসন নাজেহাল হয়ে পড়েছিল। তাই তাঁর উপরই ভরসা রেখেছে দল।
কাকদ্বীপে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হতেই নারায়ণ দাস দেওয়াল লেখা শুরু করে দিয়েছেন। বেশ কিছু ইস্যুকে সামনে রেখে এবার ভোটে লড়ছেন তিনি। তার মধ্যে প্রধান কাকদ্বীপে কর্মসংস্থানের নিদারুণ অভাব এবং তার ফলে এখানকার যুবদের পরিযায়ী শ্রমিক বনে গিয়ে ভিন রাজ্যে চলে যাওয়া। নারায়ণ দাস বলেন, এই এলাকার প্রচুর যুবক-যুবতী ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে যান। তাঁদের কথা ভেবে এখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। মৎস্যজীবী এবং পানচাষিদের উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে। এছাড়াও কাকদ্বীপ শহরকে পুরসভা করা, এলাকার জল নিকাশি ব্যবস্থাকে উন্নত করা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির মান বৃদ্ধির মতো ইস্যুগুলিকে সামনে রেখেই এবার ভোটারদের কাছে যাব আমরা।