সংবাদদাতা, বেলদা: গণপিটুনিতে এক নেশাসক্ত যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে নারায়ণগড় থানার ডহরপুরে। চোর সন্দেহে ওই যুবককে তার বাড়ির কাছেই একটি ক্লাব ঘরে আটকে রেখে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারার হয় বলে অভিযোগ। মৃতের নাম নবীন সিং (২৪)। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় এক সিভিক ভলেন্টিয়ার সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম ধরমরাজ সিং, রবি সিং, জগদীশ সিং ও জগন্নাথ সিং। ধৃত জগন্নাথ সিং নারায়ণগড় থানায় সিভিক ভলেন্টিয়ার হিসেবে কর্মরত এবং তিনি সম্পর্কে মৃতের জেঠতুতো ভাই। ধৃত চার অভিযুক্তকে মঙ্গলবার খড়গপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাদের ৮ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে নারায়ণগড়ে একটি সাইকেল চুরি হয়। নবীনই সাইকেলটি চুরি করেছে সন্দেহ করে শনিবার এলাকারই একটি ক্লাবঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করে অভিযুক্ত চার যুবক। মারধরে নবীন গুরুতর জখম হয়। রাতে তাকে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে চলে যায় অভিযুক্তরা। সারারাত রক্তাক্ত অবস্থায় ওখানেই পড়ে থাকে নবীন। গত রবিবার সকাল ১১টা নাগাদ বাড়ির ভেতর নবীনের রক্তাক্ত দেহ দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই অভিযুক্তরা সুকৌশলে দেহটি উদ্ধার করে বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করতেই তারা হাসপাতাল থেকে পালায়। পরে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় রবিবারই অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। জেরার মুখে সে অপরাধ স্বীকার করে এবং বাকিদের নাম উগরে দেয়। সেই সূত্রেই সিভিক ভলেন্টিয়ার সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে মঙ্গলবার ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নবীনের দাদা ইন্দ্রজিৎ সিংয়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে নারায়ণগড় থানার পুলিশ। জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পিটিয়ে খুনের ঘটনায় নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং বাকি দিকগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃতের দাদা ইন্দ্রজিৎ সিং বলেন, ‘ভাই নেশা করত ঠিকই, তবে কীভাবে মারা গেল বুঝতে পারছি না। পুলিশকে ঘটনার সঠিক তদন্ত করতে বলেছি।’ মৃতের মা জবা সিংয়ের কণ্ঠে ঝরে পড়েছে হতাশা। তিনি বলেন, ‘আমার ছোটো ছেলে নবীন দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক নেশা করত। তার অত্যাচারে আমরা পরিবারের সবাই ঘরছাড়া ছিলাম। কিন্তু ও কী করে মারা গিয়েছে আমি জানি না, খবর পেয়ে এখানে এসেছি। আমার নিজের ছেলেই খারাপ ছিল, তাই এই নিয়ে আমার কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।’ ধৃত অভিযুক্তরা।-নিজস্ব চিত্র