Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় জাল দলিল বানিয়ে জমি হাতানোর চেষ্টার অভিযোগে ধৃত যুবক, মৃত মানুষ জীবিত হয়ে উঠল ১৭ বছর পর!

কাটোয়ায় মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জমি হাতানোর চেষ্টায় মহব্বত শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জাল দলিলের তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

কাটোয়ায় জাল দলিল বানিয়ে জমি হাতানোর চেষ্টার অভিযোগে ধৃত যুবক, মৃত মানুষ জীবিত হয়ে উঠল ১৭ বছর পর!
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ২০:২৬
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: মৃত মানুষ জীবিত হয়ে উঠল ১৭ বছর পর! সৌজন্যে জাল দলিল। কাটোয়ায় আবার জাল দলিলের রমরমা শুরু হয়েছে। মৃত মানুষকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম মহব্বত শেখ। তার বাড়ি কাটোয়ার একাইহাটে। শনিবার তাকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। 

Advertisement

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়ার একাইহাটের বাসিন্দা তারক দত্ত ২০২৫ সালের ৩ জুলাই এনিয়ে কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অভিযোগ, তাঁদের একাইহাট মৌজায় ৩০৪ দাগ নম্বরে ১০ শতকের মধ্যে ৩ শতক জায়গা রয়েছে। তাঁর বাবা শান্তিরঞ্জন দত্ত ২০০৫ সালের ৬ ডিসেম্বর মারা গিয়েছেন। তারপর থেকে তাঁর মা ও ছ’ভাইবোন মিলে ওই জায়গা ভোগ দখল করছিলেন। ২০২৫ সালের ১ জুন ধৃত মহব্বত শেখ ওই সম্পত্তি নাকি তাঁর বাবার কাছ থেকে কিনেছে বলে দাবি করে। তার প্রমাণ হিসাবে মহব্বত একটি দলিলও দেখায়। তখন তিনি দেখেন দলিলটি ২০২২ সালের ২৫ নভেম্বর তারিখে সম্পাদিত করা হয়েছে। এরপর তারকবাবু ২০২৫ সালের ৩ জুন ওই দলিলের সার্টিফায়েড কপি তোলেন। তখনই জাল দলিলের বিষয়টি সামনে আসে। ভুয়ো ছবি, মিথ্যা বয়স দেখানো হয়। এমনকি, ভুয়ো ও জাল ভোটার কার্ড তৈরি করে কাটোয়া থানার রাজুয়া দক্ষিণপাড়া ঠিকানা ব্যবহার করেছে। একজনকে তাঁর বাবা সাজিয়ে নিয়ে গিয়ে জাল দলিল করে জায়গাটি রেজিস্ট্রি করে নিয়েছে। এই কাজে বর্ধমানের এক আইনজীবী সহ বেশ কয়েকজন যুক্ত রয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ অভিযোগ পেয়েই মহব্বতকে গ্রেপ্তার করে। প্রশ্ন উঠছে, যেখানে শান্তিরঞ্জনবাবু ২০০৫ সালে মারা গিয়েছেন, সেখানে ২০২২ সালে তাঁকে জীবিত দেখিয়ে কীভাবে দলিল তৈরি হল। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। কাটোয়ায় জাল দলিল চক্রের রমরমা চলছে বহু দিন ধরে। এর আগেও বহু অভিযোগ উঠেছিল। অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছিল। তারপরেও চক্রের কারবার বন্ধ হয়নি। অনেকেই বলছেন, চক্রের মূল চাঁইকে না গ্রেপ্তার করতে পারলে জাল দলিলের রমরমা বন্ধ হবে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ