শ্যামলেন্দু গোস্বামী বারাসত
শ্যামলেন্দু গোস্বামী বারাসত
সমাজ ও রাজনীতি যখন যে ইস্যুতে তোলপাড় হয়, সাইবার প্রতারকরা তখন সেটাকেই লোক ঠকানোর হাতিয়ার করে ফেলে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার নিয়ে সরগরম রাজনীতির ময়দান। শাসক-বিরোধী চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। সেই সঙ্গে যাঁদের বাড়ির লোক কাজের সূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন, তাঁদের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। তাই সাইবার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মানুষের এই উদ্বেগকে কাজে লাগিয়েই এবার প্রতারণায় নেমে পড়তে পারে জালিয়াতরা। সেই মতো সাধারণ মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকার বার্তা দিচ্ছে পুলিসের সাইবার সেল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভিন রাজ্য থেকে আচমকা কাউকে ফোন করে বলা হতে পারে, ‘আপনার আত্মীয় বাংলাদেশি বলে আটক করা হয়েছে । দ্রুত টাকা না পাঠালে ছাড়া হবে না।’ যাঁদের বাড়ির লোক কাজের জন্য বাইরের রাজ্যে থাকেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এমন কথা শুনে তাঁরা ফুৎকারে উড়িয়ে দিতেও পারবেন না। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে তাদের কথামতো নথিপেত্র ‘শেয়ার’ করলেই মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। সাধারণ মানুষের উদ্দেশে সাইবার বিশেষজ্ঞদের একটাই পরামর্শ, এরকম কোনও ফোন এলে বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত না হয়ে সোজা থানায় চলে আসুন।
যত দিন যাচ্ছে, লোক ঠকানোর ততই নিত্যনতুন কৌশল রপ্ত করছে সাইবার জালিয়াতরা। মানুষকে বারেবারে সচেতন করার পরেও কেউ না কেউ ঠিকই তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ফেলছেন। তারপর সর্বস্বান্ত হতে বেশি সময় লাগছে না। মূলত বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যে বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আক্রমণ, হেনস্তা চলছে এখন। এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল সহ বিজেপি-বিরোধী একাধিক রাজনৈতিক দল। এমনকী, কাউকে স্রেফ বাংলাদেশি সন্দেহে সেই দেশে ‘পুশব্যাক’-এর মতো ঘটনাও ঘটেছে। এই আবহে সাইবার প্রতারণা চক্র মানুষকে ভয় দেখিয়ে জালিয়াতির ছক করছে বলে গোপন সূত্রে জানতে পারছে পুলিস। সেই কারণেই আগাম তারা মানুষকে সতর্ক করে দিচ্ছে।
এক পুলিসকর্তা বলেন, ‘হঠাৎ করে কাউকে ফোন করে বলা হতে পারে, আপনার ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে। সে একজন অনুপ্রবেশকারী বলে আমাদের তদন্তে উঠে এসেছে। তাকে বাংলাদেশ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে বলে দেওয়া হবে, পরিবারের ওই সদস্যের কাছে কোনও ফোন নেই। তাই ফোন করলে বিপদ আরও বাড়বে। আমাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিন। তাহলে কোনও সমস্যা হবে না। এসব শুনে ভয় পেয়ে গেলেই ওদের কাজ হাসিল হয়ে যাবে।’ বারাসত পুলিস জেলার সাইবারের সেলের অফিসার বলেন, ‘দুমদাম কিছু শেয়ার করা চলবে না। মানুষের অসহায়তার সুযোগটাই কাজে লাগায় প্রতারকরা। এটা সবার মাথায় রাখা দরকার।’