সংবাদদাতা, মালদহ: রাস্তাতেই প্রসব ইংলিশবাজারের এক তরুণীর। চিকিৎসকের তৎপরতায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন সদ্য মা হওয়া ওই তরুণী এবং নবজাতক। টোটোর চারদিক কাপড় দিয়ে ঢেকে সেখানেই প্রসব করানো হয় ওই তরুণীর। তবে, পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আপাতত দু’জনকেই ভর্তি করা হয়েছে একটি নার্সিংহোমে।
রবিবার ছুটির সকালে তখন প্রায় বেলা সাড়ে দশটা। ইংলিশবাজার শহরের মকদুমপুর এলাকায় নিজের চেম্বারে বসে রোগী দেখছিলেন প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দেবচন্দন রায়। আচমকা বাইরে থেকে মহিলা কণ্ঠে আর্তনাদ শুনতে পান তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের হইচইও কানে আসে। এরপরই তিনি ছুটে যান চেম্বার থেকে। দেখেন ইংলিশবাজার পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঠাকুরদাস বাবু লেনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি টোটোয় আধশোয়া অবস্থায় কাতরাচ্ছেন তরুণী। গর্ভস্থ সন্তানের শরীরের কিছুটা অংশ বেরিয়ে এসেছে তাঁর শরীর থেকে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে কালবিলম্ব করেননি দেবচন্দন। নিজের দু’একজন সহকারীকে নির্দেশ দেন কাপড় দিয়ে টোটোর চারপাশ ঘিরে দিতে। সেটিকেই অস্থায়ী লেবার রুমের রূপ দেওয়া হয়। রাস্তায় দাঁড়িয়েই নবজাতককে প্রথমবার পৃথিবীর আলো দেখান ওই চিকিৎসক। চারপাশে তখন ভিড় জমিয়েছেন কৌতূহলী পথচারী থেকে স্থানীয়রা। সদ্য মা হওয়া মায়ের চোখেও তখন উদ্বেগের ছায়া। শেষ পর্যন্ত নবজাতক সুস্থভাবে জন্ম নিয়েছে জানাতেই নিশ্চিন্ত হন সকলে।
তবে, সংক্রমণের আশঙ্কায় দেরি না করে দ্রুত ওই মা এবং তাঁর সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে কোনও হাসপাতালে ভর্তি করে পরবর্তী চিকিৎসার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পরিবারের সদস্যরা তরুণী এবং সদ্যোজাতকে নিয়ে যান একটি নার্সিংহোমে।
দেবচন্দন বলেন, রাস্তায় প্রসবের মধ্যে কিছুটা ঝুঁকি থেকেই যায়। তবে মা এবং সদ্যোজাত সুস্থ রয়েছে। নবজাতকের নাড়ি কাটা থেকে মায়ের শরীরে কিছু সেলাই করতে হয়েছে। সবটাই হয়েছে রাস্তায় দাঁড়িয়ে। সদ্যোজাতের ওজন অবশ্য বেশ কম। তাছাড়া রাস্তায় প্রসব হওয়ায় সংক্রমণের সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই হাসপাতালে রেখে পরবর্তী চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছি। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তরুণীর আত্মীয়রা বলেন, ওই চিকিৎসকের তৎপরতায় আজ দুটি প্রাণ রক্ষা পেল। মালদহ মেডিকেলের চিকিৎসক ডাঃ অরিন্দম দাস, ডাঃ পার্থসারথি রায় প্রমুখ বলেন, দেবচন্দন চিকিৎসক মহলকে গর্বিত করেছেন।
• নিজস্ব চিত্র।